বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

প ঙ্ ক্তি মা লা

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৩, ২৩:৩২

বীজের আশ্বাস

ফারুক মাহমুদ

 
এঁকেছ বিস্তর ছবি, প্রাণী পণ্য পাথরের ভাষা
জলের জরায়ু থেকে জন্ম নেওয়া আগুনের ঝাঁজ
চুমুর প্রপাতচিহ্ন, মুগ্ধতার দীর্ঘ ফিরে আসা
জ্যোস্নার মুখরবিদ্যা, বাস্তবতা, চক্ষু পুড়ে খাঁক
দেখেছ গল্পের মুখ, পদ্যগুলো কেন জেগে থাকে
সংগীত, রোশন চৌকি, শ্রাবণের মুগ্ধ প্রেরণায়
দেখেছ ক্রমিক স্মৃতি, হাসিগন্ধ রোদনের ফাঁকে
গোলাপের চন্দ্রমুখ খাদ্যপাশে কতটা মানায়

হে মুগ্ধ, বৈষ্ণবপ্রীতি, তুমি তবে এসেছিলে একা!
আশ্রমে, বাউলপথে, দূরে-কাছে কুটিরে প্রাসাদে
যে-গাথা আগুনগাঁথা, ভাগ্য—তা-ও হয়েছিল দেখা
এলো যদি কুসুমের মাস, নিশি, চক্ষু কেন কাঁদে?

এবার শস্যের গান, তৈরি আছে মাটির ঔরস
প্রেমের সৌন্দর্য দাও, নাও তবে পুণ্যজন্মরস


-----------------------------------
 

ভালোবাসি

আঁখি সিদ্দিকা


যাকে কোনোদিন দেখিনি, স্পর্শ করিনি, যে আমাকে দেখেনি, স্পর্শ করেনি,  শুধু দূর থেকে সে আমাকে বুঝতে পারে, হয়তো আমিও তাকে বুঝতে পারি—এমন একজনের বুকে মুখ লুকিয়ে আমার জোরে জোরে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করে। সে কি কেউ আছে আসলে? জানো, আমি কাঁদলেও আমার হাত-পা, ঘাড়, মেরুদণ্ড কুঁকড়ে শ্বাসকষ্ট হয়। আমি মরে যেতে থাকি, রাগ করলেও, অভিমান হলে এমনকি ভালোবাসায় যে কোনো আবেগেও আমার মটর নিউরনে অনুরণন হয়। আমি জানি না, কোনো এক হেঁচকা টান লাগে জীবনের প্রতি, প্রাণের প্রতি। আপ্রাণ চেষ্টা করি দূরে হারিয়ে না যেতে। সকল প্রাণ ও অপ্রাণকে ভালোবাসি। জীবনকে ভালোবাসি। তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ্য করতে চেয়েছি বেঁচে থাকাকে। জানতে চাই মহাবিশ্বকে। শব্দের আলোড়নে সাদা পাতা ভরিয়ে দিতে চাই। ঝাঁকে ঝাঁকে শব্দদের আসা-যাওয়া দেখতে চাই মস্তিষ্কের ভেতরে!...মননে!... অনুভবে!...


-----------------------------------


বুনন

রাহমান ওয়াহিদ


ওম ভরা সোয়েটারের নিটোল মাপে
বুনেছিলাম তোমায় হে প্রিয়, নিরুত্তাপে
শিল্পিত গাঁথুনি খেলা জমেওছিল উলের কাঁটায়।

কী যে হলো, বুভুক্ষু কাকের ঠোঁটে
আচানক কোকিলের কুহু বেজে ওঠে
কেন যে হায়, ঝুরঝুরে বুননটা খুলে খুলে যায়।

এসো হে, দাঁড়াও প্রিয়, হিম রোদ্দুরে
সেমতো কাঁপাও ফের, কাঁপা আদরে।

বুনতে হবে যে তোমায় নতুন উলে
বোধের রোদটুকু সব আঙ্গুলে তুলে।


-----------------------------------


রংপোড়া মানুষ

মাসুদ অর্ণব

 

ফণীমনসার ফণা তুলে কাউকে ভয় দেখানোর
সাধ নেই; বটবৃক্ষ হওয়ার সাধ্যও নেই।
মেধা ও মননে অনুর্বর আমি
সর্বদা হতে চেয়েছি দূর্বাঘাস;
কাগুজে বাঘ হওয়ার চেয়ে
মিউমিউ শব্দে বেঁচে থাকা উত্তম।

আমি রংপোড়া মানুষ—ভাঙনের খেলায়
গড়ার স্বপ্নও গড়াগড়ি খায় সময়ের ধুলোতে;
জীর্ণ জীবনতরি নিয়ে
ভাসতে ভাসতে জেনেছি—হূদয়ের জিহ্বা ছাড়া
পাওয়া যায় না জীবনের স্বাদ।

[মুন্সীগঞ্জ]

 

-----------------------------------
 

অনুভূতি ঘর বাঁধে

নিহার বিন্দু বিশ্বাস

 

সমুদ্রজল লোটালুটি খায় বৈশ্বিক বালুকণায়
সেখানে এক রোদের মিলন চুম্বন করে
বায়ুর ঠোঁটে। অযাচিত প্রেম দেখে ফেলে
অলৌকিকভাবে।

প্রেমলালায় গড়াগড়ি খায়; চায়ের কফি
বাঁধাকপিরাত তাকে খোঁজে গোল্লাছুট সময়
চায়ের কাপে উষ্ণ হাওয়া চুমুকে চুমুক!
ঘন পিপাসা বরফের মুখে মুখ দেয়?
দেখা হয়নি দুচোখ ভরে জন্মাবধি।

প্রেমের নিকোটিনে গুম হয়, খেলাপি ঘুম!
প্রিয়ার ট্রাইব্যুনালে প্রেমিক বসে চুক্তি লেখে
জোসনা পাতায়—অনুভূতির গোপন আগুনে।

[পটুয়াখালী]

 

-----------------------------------

 

পতিত জীবনের বুথ

সাজ্জাদুর রহমান

 

প্রার্থনা কেন পতিত হয়ে যায়
উপেক্ষিত হয় ভালোবাসার প্রেসক্রিপশন
নিশ্বাসগুলো বুকের ফুসফুস ফুঁড়ে
বেরিয়ে আসে হাতের তালুতে
ফুলগুলো কেন ভুল হয়ে যায়?

রং বদলায় কালের লোবানের মোহগন্ধে
নিজের ব্লাডব্যাংকের গোপন বুথে
জমা করে রাখি সহস্র হাহাকার
মেমোরি ফুল হলে দু-একটি ডিলিট করতে হয়
নিজেকে আর মনে হয় না মানুষ
মনে হয় মানুষের কায়া,
সময়ের কয়েক মিনিট আলোড়ন!

ইত্তেফাক/এসকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন