বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

প ঙ্ ক্তি মা লা

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৩, ২৩:৩৭

তোমাকে উষ্ণ
ভাবি না আর

শফিক ইমতিয়াজ


তুমি ডাকো মাঝে মাঝে এখনো নিবিড় ইশারায়
যেন বা বেষ্টনকামী লতা, যুবক দেহটি ফের ঘিরে নেবে ছলে!
প্রথম প্রথম এর বুঝিনি কিছুই
তোমার চোখের ওই সলমাজড়ি-টানে সত্যি ছুটে গেছি
নির্বোধ জলের মতো বয়েছি ভাটিতে
কোনোদিন আমারো যে নাম ছিল অদম্যউজান
ঝড়ের হৃদয়ে স্বপ্ন বুনেছি স্বহস্তে
আমিও যে বর্ষাপ্রিয়, মেঘের ভেতর ঢুকে অন্তর বাজাতে পারি
বিবশ চেতনা হয়ে এসব ভুলেছিলাম!

রজঃস্বলা ভেবে সুপ্ত প্রকরণ যত ছুঁয়েছি আশায়
সুন্দরের ওম পেতে চুমুতরঙ্গে তোমার বেলাভূমি ভাসিয়েছি
শীতরোদে কলমিঝাড়ে রোমখাড়া শালিক যেমন খোঁজে কিছু
খুঁজেছি তোমাকে আমি সেরকম
শেষে দেখি তুমি এক প্রাকরণিক চমক, মৃত কবিতা, বিষয়হীন
আমার বিগত সব উচ্চারণ আমাকেই জব্দ করে এবেলা ওবেলা!

তোমাকে উষ্ণ ভাবার নেই আর সঙ্গত কারণ
সরে থাকি তাই দূরে, হয়তো বেশি দূরত্বেই—
যেটুকু পৃথক আমরা পরস্পর থেকে সেটুকুই সময়ের উপহার—
‘বেটার লেইট দ্যান নেভার’।


-----------------------------------
 

তালা

আলম মাহবুব


দরোজার তালা খুলতেই দেখি
উড়ে যায় ধূসরের বক
সীমান্তের মেঘ, লাল চেলি রাঙানো পাথরের মাটি
রৌদ্রের রং, বৃষ্টির শিষে ভেজা হরিৎ পল্লব।

একটু একটু আগুন তো জ্বলছেই
মাথা তুলছে বৃক্ষরা—বৈরী বাতাসেও মন পুড়ে যায়।

কোথাও ভাষারা মুখর, বিজলির চমকে দেখা যায়
বিধ্বস্ত দেয়াল থেকে
উড়ে যাওয়া জলপাই রঙের কবুতর।

কিন্তু ভোর নিয়ে কথা বলতেই রাঙাচোখ
তীব্র জ্বলে ওঠে বারুদ গন্ধে।

[ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ]

 
-----------------------------------


বিস্মৃতি

বুলু রানী ঘোষ

 

আমার কিছু মনে পড়ে না,
কিচ্ছু মনে পড়ে না আমার।
কোনো সুখস্মৃতি, উদ্বেলিত দুরুদুরু ক্ষণ,
কেঁপে ওঠা আঙ্গুল, আড়ষ্ট হাতের বন্ধন,
কল্পনার চাদরে ঢাকা অব্যক্ত অধীর আয়োজন।

কিছু মনে পড়ে না আর,
কিছুই মনে পড়ে না আমার।
অপরশ মোহমাখা উত্তাল মধু আলাপন,
না মানা শতেক মানা, অলখিত অধর যাপন,
মন ভেজা ঝোড়ো হাওয়া ভীরুভীরু বুকের কাঁপন।

কিছু মনে পড়ে না আর,
মনে পড়াতে বড় অনীহা আমার।
নিকশিত অশ্রুকণা হোমানলে দেই বিসর্জন,
আবেগের যূপকাঠে আলপনা নেই প্রয়োজন,
প্রতারিত নোনাজলে হোলিখেলা করি আয়োজন।

কিছু মনে পড়ে না আমার!
বুকজুড়ে পুড়ে মরে আজো এক জ্বলন্ত লণ্ঠন।

 

-----------------------------------
 

 

একটি পণ্যবীথির
আত্মকাহিনি

সোহেল রানা


গতকাল জানতে পেরেছি—
তোমাদের ছাদের ভাঙা
কার্নিশে হলুদ রঙের দুটো বুনো জ্যোৎস্না
সহবাসে মেতে উঠেছে সহস্র বছর পর!
এও জানতে পেরেছি, পিঁয়াজ-রসুনের গন্ধে
যুবতী হয়ে উঠেছে তোমাদের
পরিত্যক্ত রন্ধনশালার
বৃদ্ধ ব্লেন্ডার মেশিন...

রীতিমতো ফণিমনসায় ভরে উঠেছে
তোমাদের করিডর!
শুনেছি, জানালার পুরনো পর্দাগুলো একটি

স্বরচিত মুক্তির দাবি নিয়ে আত্মাহুতি
দিয়েছে, ডাইনিং বেসিনের রংও
নাকি খসে পড়েছে গতকালই?

এখন নাকি শুধু সুগন্ধি সাবান এবং ট্যালকম
পাউডারগুলোর বিপরীত ভাঙনের ধ্বনি
শোনা যায় মাস্টার ওয়াশরুমের
স্টুডিও বাথটাব থেকে?

[শিবগঞ্জ]

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন