বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

উখিয়া সীমান্তে ইয়াবা কারবারি-বিজিবির গোলাগুলি

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:২২

কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী সীমান্তে ইয়াবা কারবারিদের সঙ্গে সীমান্ত রক্ষী বিজিবি সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সীমান্তে বিজিবিকে লক্ষ্য করে ইয়াবা কারবারিরা গুলিবর্ষণ করলে বিজিবি পাল্টা গুলি চালায়। মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল হাজীর বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

তিনি জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনস্থ বালুখালী বিওপির দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে সীমান্ত পিলার-২০ হতে প্রায় ৮০০ গজ উত্তর-পূর্ব কোনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইয়াবার চালান আসছে। এমন খবরে রহমতের বিল হাজীরবাড়ি এলাকায় বালুখালী বিওপির একটি বিশেষ টহলদল অভিযান চালায়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা টহল দলকে লক্ষ্য করে ফায়ার শুরু করে। এ সময়ে বিজিবি সদস্য জীবন ও সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে পাল্টা ফায়ার করে। এতে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

বিজিবি কর্মকর্তা জানান, ফায়ারের ঘটনায় বিজিবি টহলদলের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং ইয়াবা কারবারির কেউ হতাহতের খবর জানা যায়নি। ঘটনার পর থেকে বিওপি সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, মিয়ানমার সীমান্তে শীর্ষ সন্ত্রাসী নবী হোসেন গ্রুপের সদস্যরা চোরাচালান নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে। এসময় ধামনখালি এলাকায় মিয়ানমার থেকে আসা দুজনকে টহল দল আটক করে তল্লাশি চালালে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে সশস্ত্র নবী হোসেন গ্রুপ বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। বিজিবিও আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায়। ফায়ারে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, বিজিবি কতৃর্ক নবী হোসেনকে ধরিয়ে দিতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষাণা করা হয়েছিল।

গত বছরের জুলাই হতে টানা কয়েকমাস মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে সংঘাত চলে। সেসময় অনেক গোলা বাংলাদেশের মাটিতেও এসে পড়েছে। গত মাস দুয়েক ধরে সীমান্তে গোলাগুলি বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবার গুলির শব্দে সীমান্তে বসবাসকারি লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ইত্তেফাক/আরএজে