বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

যৌতুকের লোভে একের পর এক বিয়ে

১৭তম স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা: স্বামীর মৃত্যুদণ্ড, ১৮তম স্ত্রী খালাস

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫:৩৪

রংপুরের পীরগঞ্জে ১৭তম বিয়ের পর স্ত্রী তানজিনা বেগমকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী আবু সাঈদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে তার ১৮তম স্ত্রী তাছকিরা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ঘটনার ১৬ বছর পর হত্যা মামলায় আদালত এ রায় দিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক এম আলী আহমেদ এ রায় দেন।

স্ত্রী হত্যার রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আবু সাঈদ পলাতক ছিলেন। মামলার অপর আসামি আবু সাঈদের ১৮তম স্ত্রী তাছকিরা বেগমকে খালাস দিয়েছেন আদালত। তবে তাছকিরা বেগমও পলাতক রয়েছে।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার অনন্তরামপুর গ্রামের তাজিম উদ্দিনের মেয়ে তানজিনা খাতুনের সঙ্গে ওই উপজেলার পালগড় গ্রামের আজিমুদ্দিনের ছেলে আবু সাঈদের বিয়ে হয়। তানজিনা ছিলেন আবু সাঈদের ১৭তম স্ত্রী। পরবর্তীতে আবু সাঈদ তাছকিরা বেগম নামের এক নারীকে ১৮তম বিয়ে করেন। ঘটনার দিন ২০০৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ১৫ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে আবু সাঈদ (তৎকালীন বয়স ৪২ বছর) তার নববিবাহিত স্ত্রী তাছকিরার (তৎকালীন বয়স ২০ বছর) সহযোগিতায় তানজিনাকে (তৎকালীন বয়স ৩২) পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ পাশের একটি ধানক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় পরদিন ৯ ফেব্রুয়ারি পীরগঞ্জ থানায় দু'জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন তানজিনার বাবা তাজিম উদ্দিন। তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৩ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিয়াউল হক। ৩০ জুলাই মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১০ সালের ২৬ জুলাই জামিন পেয়ে কিছুদিন আদালতে হাজিরা দিয়ে ২০১১ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে পলাতক রয়েছেন আসামি আবু সাঈদ। অপরদিকে তাছকিরা বেগম ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি জামিন পেয়ে ২০১৪ সালের ১৮ মে থেকে পলাতক রয়েছেন। এ মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ রায় ঘোষণা করলেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সরকারি কৌঁসুলি তাজিবুর রহমান লাইজু জানান, অভিযুক্ত আবু সাঈদ যৌতুকের লোভে একের পর এক বিয়ে করছিলেন। তানজিনাকে বিয়ের সময় ২৫ হাজার টাকা যৌতুকের মধ্যে ১০ হাজার টাকা দেন তার বাবা। বাকি ১৫ হাজার টাকার দাবিতে তানজিনাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আবু সাঈদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট।

অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় তার কোনো মতামত পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/এসকে