বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মেয়ে হিসেবে স্বীকৃতি না পেলেও, পেলের সম্পত্তি পেল রেজিনা

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩:৫৪

ফুটবল পায়ে জাদুকরী ছোঁয়ায় গ্রাম-শহর ছাড়িয়ে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বুকে আলো ছড়িয়ে কেবল ফুটবলেই নয়, ক্রীড়াজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে ওঠা ব্রাজিলিয়ান এক নাম এডসন আরান্তেস দো নসিমেন্তো। তবে তাকে ডাকা হতো পেলে বলেই।

গত ২৯ ডিসেম্বর ৮২ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে ওপারে পাড়ি জমান এ ফুটবলের রাজা। সম্প্রতি তার মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তির ভাগবাঁটোয়ারা করতে গিয়ে দেখা গেল এক অবাক করা কাণ্ড। জীবনদশায় বেঁচে থাকতে যাকে কোনো দিন মেয়ে বলে স্বীকৃতি দেননি পেলে তাকেই নিজের সম্পত্তিতে ভাগ দিয়ে গেছেন পেলে। বলছিলাম পেলের গোপন সন্তান সান্দ্রা রেজিনার কথা।

পেলের জীবন খেলার মাঠ ছাড়া মাঠের বাইরেও ছিল রঙিন, তার জীবনে ভালোবাসা এসেছে বহুবার। জানা গেছে ফুটবলের রাজা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিন বার। এছাড়া বিবাহ ব্যতীতও বিভিন্ন নারীর সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা শোনা গিয়েছে। সব মিলিয়ে পেলের মোট সাত জন সন্তানের কথা শোনা গিয়েছে। পেলের প্রথম স্ত্রী রোজামেরি ডি রেইসের ঘরে রয়েছে তিন সন্তান। এর মধ্যে মেয়ে দুজন এবং ছেলে একজন। মেয়েদের নাম-কেলি এবং জেনিফার আর ছেলের নাম রেখেছেন বংশের নামের সঙ্গে মিল রেখে, এডসন। এরপর দ্বিতীয় স্ত্রী ব্রাজিলিয়ান গায়িকা আসিরিয়া লেমোসের ঘরে রয়েছে দুই যমজ সন্তান। তাদের নাম হচ্ছে জোশুয়া ও সেলেস্তে। তবে শেষ সময় তৃতীয় স্ত্রী ব্রাজিলিয়ান-জাপানি ব্যবসায়ী মার্সিয়া অকোরির সঙ্গেই ছিলেন তিনি।

এদিকে বৈবাহিক সম্পর্কের বাইরেও পেলের আরো কয়েক জন সন্তানের কথা জানা যায়। সাংবাদিক লেনিয়া কুর্টজের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল একসময়। পরবর্তী সময়ে তাদের সন্তান ফ্ল্যাভিয়া কুর্টজকেও নিজের মেয়ে হিসেবে মেনে নেন পেলে। কিন্তু এদের মধ্যে সবচেয়ে অভাগা ছিলেন বোধহয় সান্দ্রা রেজিনা। তিনি নিজেকে পেলের মেয়ে দাবি করলেও জীবিত থাকা অবস্থায় পেলে তাকে মেনে নেননি। আদালতে ডিএনএ টেস্টের প্রমাণ দেখালেও পেলে কখনোই স্বীকার করেননি। টানা পাঁচ বছর চলা মামলার পর আদালত সান্দ্রাকে পেলের বংশীয় নাম নসিমেন্তো ব্যবহারের অনুমতি দেন।

তবে পেলের মৃত্যুর পর শোনা যাচ্ছে নিজের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেননি পেলে। সম্পত্তি পাবে তার সন্তানরা। শোনা গিয়েছে পেলে মারা যাওয়ার আগে দেখা করার জন্য ডেকে নিয়েছিলেন রেজিনার দুই ছেলেকে। নিজের উইলে তাদেরকেসহ মোট সাত সন্তানকেই উত্তরাধিকার বানিয়ে গেছেন পেলে।

পেলের মৃত্যুর আগের দিন (২৮ ডিসেম্বর) রেজিনার দুই সন্তান গ্যাব্রিয়েল আরান্তেস দো নসিমেন্তো এবং অক্টাভিও ফেলিনি নেতোর সঙ্গে দেখা করেন। সারাজীবন কেবল অবহেলা জুটলেও শেষবেলায় পেলের স্বীকৃতি পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তারা। 

সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘আমরা উত্তেজিত ছিলাম, এমন একটা মুহূর্তের জন্য বহু বছর থেকে অপেক্ষা করছিলাম। প্রতিটা পরিবারের উত্থান-পতন থাকে, লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু দিনশেষে ভালোবাসা সব ব্যবধান ঘুচিয়ে দেয়।’

ইত্তেফাক/এসএস

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন