বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৮ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বাধা পেরিয়ে ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত বরাবর শিক্ষা প্রসারে আহ্বান

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬:৫২

সীমানার কাজ সবসময় উভয় পাশে বসবাসকারী সম্প্রদায়ের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ানো বা বিভাজন তৈরি করা অথবা ‘আমাদের’ এবং ‘তাদের’ অনুভূতি তৈরি করা নয়। এটি মানুষের তৈরি বিভিন্ন বাধা ছাড়াই আরও মানবিক হতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ ড্যান গ্রামের কথাই ধরুন, এই ছোট্ট গ্রামটি যা ভারত ও মিয়ানমারকে পূর্ব নাগাল্যান্ডের নোক্লাক জেলার পাহাড়ে আলাদা করেছে। সীমান্তের দু’পাশের খিয়ামনিয়ানগান নাগা উপজাতি এই কারণে গর্ব করে যে এটি মানুষের খবারের যোগান দিতে সক্ষম। খবর বর্ডার লেন্স। 

এর পশ্চিমে নাগাল্যান্ডের মহিমান্বিত সরমতি পর্বত দ্বারা বেষ্টিত, পাংশা নামক একটি গ্রামে এমন বাসস্থান  রয়েছে যেখানে এটি সীমান্তের উভয় দিক থেকে ছাত্ররা বাস করে। একটি স্কুলে, একই ছাদের নিচে তারা যৌথভাবে কৃষি চর্চা এবং ঐতিহ্যবাহী উৎসব আয়োজন করে। এই ধরনের বন্ধন এবং সৌহার্দ্যের নিজস্ব তাৎপর্য রয়েছে কারণ, আন্তর্জাতিক সীমান্ত যা ভারত মিয়ানমারের সাথে ভাগ করে নেয় যা সাম্প্রতিক অতীতে বিদ্রোহ ও সশস্ত্র সংঘাতের প্রবণ ছিল। প্রকৃতপক্ষে, একটি আসাম রাইফেলস ফাঁড়ি যা বিশেষভাবে গ্রামে অবস্থিত তা অনেক এনকাউন্টার এবং বিদ্রোহ সম্পর্কিত ঘটনার সাক্ষ্য দেয়। সীমান্তের বার্মিজ অংশে উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল রয়েছে বলে জানা যায়।

এছাড়া দান গ্রামটি স্থানীয়দের কাছ থেকে বিদ্রোহ দেখেছিল যখন ২০১৬ সালে মিয়ানমার সরকার এই গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়া কাল্পনিক সীমান্তের প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়া দেওয়ার জন্য একটি পরিকল্পনা করেছিল।

এই চ্যালেঞ্জগুলি গ্রামে বসবাসকারী স্থানীয় নাগা উপজাতিদের আত্মাকে ম্লান করেনি। তাদের স্থির সংকল্প তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং জীবনের প্রতি অবিচল দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রতিফলিত হয়। বিশেষ করে যখন তাদের সন্তানদের শিক্ষিত করা এবং তাদের একটি উন্নত শিক্ষিত জীবন দেওয়ার কথা আসে। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারে (আইটিসি) আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর অবস্থিত মিশন স্ট্রেইটওয়ে স্কুলে প্রবেশের পর অনেক অল্পবয়সী মেয়ে এবং ছেলেদের জীবন সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

গ্রামের একজন স্থানীয় হ্যাং চিং বলেন, শিশুরা স্কুলে যায় শুধুমাত্র বিভিন্ন বিষয়েই শেখে না, বরং বিভিন্ন গ্রাম এবং সীমান্তের ওপার থেকে নতুন বন্ধু খুঁজে পায়, যা তাদের বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমার গ্রাম থেকেও শিক্ষার্থীরা স্কুলে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নিতে আসে।

ড. আওটেমশি লংকুমার ২০১০ সালে ড্যান গ্রামে ‘দ্য মিশন স্ট্রেইটওয়ে স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওটেমশির অনুপ্রেরণা তার মা যিনি একা হাতে সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। তার পাঁচ সন্তানকে বড় করেন। তিনি গণিতে পিএইচডি করা প্রথম নাগা ছিলেন এটিই ছিল শিক্ষার জন্য তার জীবন উৎসর্গ করার মূল কারণ। পরে মোকোকচুং-এর ফজল আলী কলেজে অধ্যাপক হন।

সেই সময়ে, গ্রামে সঠিক রাস্তা, বিদ্যুৎ বা মোবাইল ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক না থাকায় স্কুল চালানো তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। যেখানে উদ্দেশ্যগুলি শুদ্ধ এবং অবিচল, সেখানে অগ্রযাত্রাকে বড় কোনো থামাতে পারবে না তা আওটেমশি শিগগিরই প্রমাণ করেছিলেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটিতে আনুষ্ঠানিক স্কুল শুরু করতে সক্ষম হওয়ার বিশ্বাসটি স্কুলের প্রথম বছরেই ৬১ জন শিক্ষার্থীকে আকৃষ্ট করেছিল। দুর্বল অবকাঠামো এবং সম্পদের অভাবের কারণে বেশিরভাগ চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে উঠা কষ্টকর ছিল ।  

মিয়ানমারের ক্রমাগত সংঘাত এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি মায়ানমারের অনেক সীমান্তবর্তী গ্রাম ও শহর থেকে ছাত্রদের তাদের শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ড্যান পার হতে বাধ্য করেছে। বেশিরভাগ ছাত্রই মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে সাগাইং বিভাগের নাগা পাহাড়ের লাহে, লেশি এবং নানিয়ুন শহরের র নাগা-শাসিত অঞ্চলে অবস্থিত।

ইত্তেফাক/এফএস/এএএম