বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৮ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

দুদকের দাখিল করা প্রতিবেদন গ্রহণ করেননি হাইকোর্ট

দুদকের ৪৭৩ অভিযোগ অনুসন্ধান সমাপ্তির নথি তলব হাইকোর্টের

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৩, ২১:৫১

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরকম অভিযোগ সম্বলিত ৪৭৩টি নথির অনুসন্ধান সমাপ্তির দুদকের প্রতিবেদন তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ওই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে দুদক চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এই আদেশ দেন।

এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে দুদক। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিশন বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত অভিযোগসমূহ যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করে। ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ মাসে পূর্বের জেরসহ মোট ৪ হাজার ৪৮১টি অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন ছিল। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক কমিশন এই সময়ে অর্থাৎ উক্ত পাঁচ মাসে ১৫৪টি অভিযোগের বিপরীতে মামলা দায়েরের ও সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের অভাবে ৪০৮টি অভিযোগ পরিসমাপ্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২টি অভিযোগ অন্যান্যভাবে নিষ্পত্তি করা হয়। একই সময়ে গত বছরের ১০ মার্চ পর্যন্ত পূর্বের জেরসহ মোট ১ হাজার ৫৭৮টি মামলা তদন্তাধীন ছিল। এর মধ্যে ৫৭টি মামলার এফআরটি (চূড়ান্ত প্রতিবেদন) দাখিল ও ১৬৫টি মামলার চার্জশিট দাখিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ৬টি মামলা অন্যান্যভাবে নিষ্পত্তি করা হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিশনের সকল সিদ্ধান্তই সর্বসম্মতিক্রমে বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়। এককভাবে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নাই।

সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

দুদকের দাখিল করা এই প্রতিবেদনের উপর শুনানিকালে অসঙ্গতির বিষয়টি তুলে ধরে হাইকোর্ট। আদালত বলেন, প্রতিবেদনের একটি স্থানে টাইপাকারে লেখা রয়েছে ১ হাজার ৬৭৮টি মামলার তদন্তের কথা। কিন্তু সেটা কেটে হাতে লিখে দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৫৭৮টি। আবার ৬৫টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা বলা হলেও সেটাও কাঁটাছেঁড়া করে হাতে লিখে ৫৭টি  উল্লেখ করা হয়েছে। ১৫৭টি মামলার চার্জশিট দাখিলের কথা বললেও তা কেটে হাতে লিখে ১৬৫টির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

আদালত বলেন, এভাবে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে কেন। আমরা কোন তথ্যটি আমলে নেব। এরপরই হাইকোর্ট ৪৭৩টি নথির অনুসন্ধান সমাপ্তির প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেয়। আদালতে দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক শুনানি করেন।

গত ১৪ এপ্রিল ‘দুদকে অনুসন্ধান-বাণিজ্য’/ বহু রাঘব বোয়ালকে ছেড়ে দেন’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুদকের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তলব করে হাইকোর্ট। সেই তলব আদেশের প্রেক্ষিতে গতকাল একটি প্রতিবেদন দাখিল করে দুদক। সেই প্রতিবেদনে তথ্যগত বিভ্রান্তি ও অসঙ্গতি থাকায় নতুন করে প্রতিবেদন তলব করেছে হাইকোর্ট। 

ইত্তেফাক/এএএম