মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ইউক্রেন যুদ্ধ: মোড় ঘোরাবে ট্যাংক!

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ০১:০১

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরোধ অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের একটি শহর দখল করেছে রাশিয়া। এ নিয়ে যেমন কিয়েভ চিন্তিত, তেমনি পশ্চিমা বিশ্বের শক্তিমান রাজধানীগুলোও দুশ্চিন্তায়। যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে প্রভাবশালী ইউক্রেন মিত্ররা জোর প্রচেষ্টা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ২৫০ কোটি ডলারের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। তবে সব সহায়তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ট্যাংক। পশ্চিমা বিশ্বের ধারণা, ইউক্রেনকে ট্যাংক সরবরাহ করলে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যেতে পারে। বিশেষ করে জার্মানির লেপার্ড বা চিতাবাঘ-২ ট্যাংক বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও দেশটি এই ট্যাংক দিতে রাজি নয়। দেশটির ভয় যে, অন্য দেশও যদি এই ট্যাংক কিয়েভকে দেয় তাহলেও রাশিয়া ধরে নেবে এটা বার্লিনেরই দেওয়া। এর ফল ভোগ করতে হতে পারে জার্মানিকে।

ইউক্রেনের পক্ষে গতি সঞ্চারের চেষ্টা : ইউক্রেনে যুদ্ধ ও প্রায় থমকে থাকা ফ্রন্টলাইন পরিস্থিতিকে নতুন ঘোষিত সামরিক সরঞ্জামের মাধ্যমে পরিবর্তনের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা আশা করছে যে, এমন সরঞ্জাম রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ইউক্রেনের লড়াইয়ে নতুন গতিবেগ সঞ্চার করতে পারবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক এ মিলি বলেন, রাশিয়া এখনো ইউক্রেনের বড় অংশ দখল করে আছে। সে দেশের প্রতি ইঞ্চি থেকে রুশ সেনাদের এ বছরে বিতাড়িত করা কঠিন হবে। রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় সহায়তা করতে ইউক্রেনকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের নীতি বিষয়ক সর্বোচ্চ উপদেষ্টা কলিন কাহল বলেন, ‘আমরা আসলেই যেটাতে মনোযোগ দিচ্ছি তাহলো সংঘাতের পরবর্তী পর্বের জন্য ইউক্রেনের সেসব সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, যাতে করে আসলেই যুদ্ধের হিসাবনিকাশ বদলানো যায় এবং গ্রীষ্মের শেষে ও শরতের শুরুতে ইউক্রেনের যে গতিবেগ ছিল তা অব্যাহত রাখা যায়।’ ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলিও গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।

ইউক্রেনীয় বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে আমেরিকা তাদের সৈন্য না পাঠানোর অবস্থান বজায় রাখলেও সম্প্রতি ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানো এবং ইউক্রেনের সামরিক ঘাঁটিতে ইউক্রেনীয় সৈন্যদের এটা কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, সেই প্রশিক্ষণ দিতে সম্মত হয়ে যুদ্ধে আরো কৌশলগতভাবে জড়িত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিয়েভ সেনাদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র আশা করে, এটি ইউক্রেনীয় সৈন্যদের আক্রমণ চালাতে বা রুশ আক্রমণ মোকাবিলায় আরো ভালোভাবে প্রস্তুত করবে। অন্যদিকে রাশিয়া সম্প্রতি দাবি করেছে, তারা গুরুত্বপূর্ণ লবণ-খনির শহর সোলেডারের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ইউক্রেন সেনারাও সেখান থেকে পিছু হটেছে।

পশ্চিমা দেশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, রুশ বাহিনীকে হটিয়ে দিতে আগামী কয়েক সপ্তাহে একটি ‘সম্ভাব্য সুযোগ’ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, রসদের ঘাটতি পূরণ এবং অতিরিক্ত সৈন্যবল একত্রিত করার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রুশ বাহিনীতে গোলাবারুদ এবং প্রশিক্ষিত সৈন্যের সংকট রয়েছে। এ মাসের শুরুর দিকে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স ইউক্রেনে সাঁজোয়া গাড়ি পাঠানোর ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলে ইউক্রেনের রণশক্তি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে। ব্রিটেনে ডিফেন্স সিলেক্ট কমিটির প্রধান টবিয়াস এলউড সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিবিসিকে বলেন, ‘ইউক্রেনের প্রতি আন্তর্জাতিক সাহায্য এখনো খুব কম।’ তিনি বলেন, ‘রাশিয়া চায় যে এব্যাপারে আমরা দ্বিধান্বিত থাকি।’ তিনি পোল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলে একটি অস্ত্র তৈরি কারখানা গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছেন, যেখান থেকে ইউক্রেন দীর্ঘমেয়াদে অস্ত্র সংগ্রহ করতে পারবে। অন্যদিকে রাশিয়া পশ্চিমা দেশগুলোকে সতর্ক করেছে এই বলে যে, তার শত্রু দেশকে ট্যাংক সরবরাহ করা হলে এই সংঘাতকে তা অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে দেবে।

যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে পারে ট্যাংক : ইউক্রেনের জন্য বাইডেন সরকার ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ তৈরি করেছে। এর মধ্যে ৯০টি স্ট্রাইকার কমব্যাট গাড়ি বা সাজোয়া গাড়ি, ৫৯টি ব্র্যাডলি সাজোয়া গাড়িসহ প্রচুর গোলাবারুদ দেওয়ার কথা আছে। কিন্তু ট্যাংকের উল্লেখ নেই। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদেরকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহারের লক্ষ্যে ট্যাংক সরবরাহ করার জন্য তাদের প্রতি সরাসরি আবেদন জানিয়েছেন। আমেরিকার কাছেও অ্যাব্রামস ট্যাংক চেয়েছিল ইউক্রেন। পেন্টাগনের নীতি বিষয়ক সর্বোচ্চ উপদেষ্টা কলিন কাহল বলেন, ইউক্রেনের অনুরোধ মেনে উচ্চ জ্বালানি চাহিদা সম্পন্ন এম-১ অ্যাব্রামস মেইন ব্যাটল ট্যাংক পাঠাতে পেন্টাগন এখনো রাজি না। কাহল বলেন, ‘আমার মনে হয় না যে, আমরা এখনো তেমন পরিস্থিতিতে পৌঁছেছি। অ্যাব্রামস ট্যাংক অত্যন্ত জটিল সরঞ্জাম। এটি ব্যয়বহুল। এটি চালানোর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া কষ্টসাধ্য। এটিতে একটি জেট ইঞ্জিন রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘পেন্টাগন ইউক্রেনকে এমন সরঞ্জাম দিতে চায় না, যা তারা মেরামত করে সচল রাখতে বা দীর্ঘমেয়াদে এটি সার্ভিসে রাখতে পারবে না’। ইউক্রেনের সেনাকে এখন ট্যাংক চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণেই তাদের ট্যাংক দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে জার্মান চ্যান্সেলর ওলফ শলত্স জানিয়েছিলেন, আমেরিকা ইউক্রেনকে অ্যাব্রামস ট্যাংক দিলে তবেই জার্মানি তাদের লেপার্ড-২ ট্যাংক ইউক্রেনের হাতে তুলে দেবে। লেপার্ড-২ কে বিশ্বের অন্যতম সর্বাধুনিক মেইন ব্যাটেল ট্যাংক (এমবিটি) হিসেবে গণ্য করা হয়। লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের তথ্যমতে, মিত্রদের কাছে জার্মানির তৈরি এ ধরনের প্রায় ২ হাজার লিও-২ এমবিটি রয়েছে। এটা চালানোর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। এটা তৃতীয় প্রজন্মের ট্যাংক। ১৯৭০-এর দশকে পশ্চিম জার্মানিতে তৈরি এবং ১৯৭৯ সালে এর কার্যক্রম শুরু হয়। এতে ১২০ এমএম এর স্মুথবোর ক্যানন রয়েছে। আফগানিস্তান এবং সিরিয়ার যুদ্ধেও এই ট্যাংক ব্যবহৃত হয়েছে। এই ট্যাংক দিয়ে ৩৪০ কিলোমিটার দূরত্বে ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানা যায়। এতে রয়েছে দুটি টারবো ডিজেল ইঞ্জিন। লেপার্ড ট্যাংকে যে গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয় অ্যাব্রামস ট্যাংকেও সেই একই গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

ব্রিটেন ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে, তারা ১৪টি চ্যালেঞ্জার-২ ট্যাংক ইউক্রেনে পাঠাবে। কিন্তু কিয়েভের সরকারের চাহিদা আরো বেশি। সে কারণে জার্মানির লেপার্ড-২ ট্যাংক এই যুদ্ধের সেই সমীকরণের চাবিকাঠি। ব্রিটিশদের সরবরাহ করা ট্যাংকের তুলনায় লেপার্ড-২ ট্যাংকের সরবরাহ অনেক বেশি এবং ইউরোপে এক ডজনেরও বেশি দেশের সামরিক বাহিনীতে এই ট্যাংক ব্যবহার করা হয়। চ্যালেঞ্জার ট্যাংক ছাড়াও ব্রিটেন ইউক্রেনে আরো বেশ কিছু স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। এসব অস্ত্রও অনেকটা ট্যাংকের মতো। এগুলো নিজে নিজেই অগ্রসর হতে পারে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলছেন, তাদের চ্যালেঞ্জার-২ ট্যাংক রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনকে আরো বেশি শক্তিশালী করবে।

ব্রিটিশ পরিকল্পনায় বলা হচ্ছে, এছাড়াও ব্রিটেনের তৈরি আরো ৩০টি বড় আকারের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র-এএস৯০ পাঠানো হবে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রধান যুদ্ধ ট্যাংক এই চ্যালেঞ্জার-২। এতে ক্রু থাকে চার জন—কমান্ডার, গানার, লোডার এবং ড্রাইভার। ইউক্রেনের প্রধান ট্যাংকগুলোতে যত ক্রু থাকে এই সংখ্যা তার চেয়ে একজন বেশি। এটি শত্রুপক্ষের সরাসারি আঘাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। এসব ট্যাংকের ওজন ৬৪ টন যা রুশ ট্যাংকের চেয়েও ভারী। চ্যালেঞ্জার ট্যাংকগুলো ২০ বছরেরও বেশি পুরোনো। এগুলো তৈরি করা হয়েছে ১৯৯০-এর দশকে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেন যেসব ট্যাংক ব্যবহার করছে সেগুলোর তুলনায় ব্রিটেনের তৈরি চ্যালেঞ্জার ট্যাংক সবচেয়ে আধুনিক। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ট্যাংকের সাহায্যে ইউক্রেন আরো ভালো করে প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে পারবে। একই সঙ্গে আরো নিখুঁত আক্রমণ চালাতে সক্ষম হবে। এসব ট্যাংক কীভাবে চালাতে হবে এবং এগুলোর সাহায্যে শত্রুপক্ষের ওপর কীভাবে আক্রমণ পরিচালনা করতে হবে সে বিষয়ে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীকে প্রশিক্ষণও দেবে ব্রিটেন। ব্রিটেন আশা করছে, ইউক্রেনকে এই ট্যাংক দেওয়ার ফলে যুদ্ধের গতিবিধি পালটে যাবে এবং একই সঙ্গে অন্যান্য দেশগুলোও ইউক্রেনকে আরো আধুনিক অস্ত্র দেওয়ার জন্য উত্সাহিত হবে।

চাপে জার্মানি : দক্ষিণ জার্মানির র‍্যামস্টিন এয়ারবেসে এক বৈঠকে ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পশ্চিমা দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বলেছেন: ‘শত শত ধন্যবাদ মানে শত শত ট্যাংক নয়।’ কিন্তু ইউক্রেনকে ট্যাংক সরবরাহ করার প্রশ্নে বিশেষভাবে সমস্যায় পড়েছে জার্মানি। তাদের তৈরি লেপার্ড-২ ট্যাংক পাঠাতে এবং অন্যান্য যেসব দেশের সামরিক বাহিনীতে এই ট্যাংক রয়েছে সেগুলো ইউক্রেনের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যাপারে তাদের ওপর চাপ বাড়ছে। পোল্যান্ড বা ফিনল্যান্ডের মতো দেশ যাদের কাছে লেপার্ড-২ ট্যাংক রয়েছে সেগুলো ইউক্রেনের কাছে পাঠাতে হলে প্রস্তুতকারী দেশ হিসেবে জার্মানির অনুমোদন লাগবে।

ইউক্রেনে রুশ অভিযান প্রতিরোধে সহায়তা করার জন্য আরো সরঞ্জাম সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার একদিন পর ৫০টিরও বেশি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা র্যামস্টিনে জড়ো হন। যদিও শুক্রবারের বৈঠকে কোনো ফল আসেনি। বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন তাদের বলেন, এখন সময় এসেছে সামরিক সহায়তাকে আরো গভীর করার। ইউক্রেনে যুদ্ধের প্রায় ১১ মাস পর ন্যাটোর সামরিক অধিনায়করা বিশ্বাস করেন যে, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে সৈন্যসংখ্যা বাড়িয়ে মস্কোর সরকার বসন্তকালে নতুন করে আক্রমণের পরিকল্পনা করছে।

র‍্যামস্টিনে বৈঠকের আগে ট্যাংক সরবরাহ করার বিষয়ে জার্মানির দ্বিধাগ্রস্ত মনোভাবের সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি বার্লিন সরকারকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, লেপার্ড-২ ট্যাংক হাতে পেলে সেগুলোকে শুধু প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহার করা হবে এবং সেগুলো কোনোভাবেই রাশিয়ার ভূখণ্ডের ভেতরে ঢুকবে না। এক জার্মান টিভিকে তিনি বলেন, ‘আপনার লেপার্ড-২ ট্যাংক থাকলে সেগুলো আমাদের দিয়ে দিন।’ ওদিকে পোল্যান্ডের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওয়েল ইয়াবলনস্কি গত শুক্রবার ইঙ্গিত দেন, এই প্রশ্নে বার্লিনের মতামত যাই হোক না কেন, তারা ইউক্রেনকে লেপার্ড-২ ট্যাংক সরবরাহ করতে প্রস্তুত। পোলিশ রেডিওকে তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টা দেখছি। আমি মনে করি, যদি বাধার মাত্রা বেশি হয়, তাহলে আমরাই এধরনের অসাধারণ পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকব।’ জার্মানি নিজেদের অস্ত্র সংঘাত অঞ্চলে রপ্তানির বিষয়ে বরাবরই সংবেদনশীল। এবিষয়ে এক জ্যেষ্ঠ জার্মান কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমাদের সরাসরি রপ্তানি করা ট্যাংকের সঙ্গে তৃতীয় কোনো দেশের রপ্তানি করা (জার্মানিতে প্রস্তুতকৃত) ট্যাংকের পার্থক্য নির্ধারণ করা কঠিন’। অর্থাৎ, রাশিয়া এগুলো জার্মানির পাঠানো অস্ত্র হিসেবেই গণ্য করবে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, আমেরিকার ঘোষণাতেই স্পষ্ট, ইউক্রেনকে এখন ট্যাংক দেওয়া হবে না। ফলে জার্মানিও সেই একই পথে হাঁটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/ইআ