শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আখাউড়া স্থলবন্দর থেকে রপ্তানির অর্ধেকই মাছ

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ০৫:৩২

আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যেসব পণ্য ভারতে যায়—তার অর্ধেকের বেশি বিভিন্ন ধরনের মাছ। তবে গেল কয়েক মাস ধরে ডলারের বিপরীতে রুপির মান কমে যাওয়ায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা মাছ আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে তাজা মাছ পাচারের কারণে মাছ রপ্তানির পরিমাণ প্রতিনিয়ত কমছে বলে অভিযোগ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের।

সূত্রে জানা গেছে, এ বন্দর দিয়ে বরফায়িত মাছ ছাড়াও পাথর, রড, সিমেন্ট, তুলা, ভোজ্য তেল, এলপি গ্যাস, প্লাস্টিক, ফার্নিচার ও খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে ভারতে। রপ্তানি বাণিজ্য ভালো হওয়ায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা আমদানি বাণিজ্যে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। যদিও গেল কয়েক বছরে উত্তর-পূর্ব সাতটি রাজ্যর মধ্যে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। এ বন্দর দিয়ে প্রতি কেজি মাছের রপ্তানি মূল্য আড়াই ডলার।

তবে আগে প্রতিদিন আড়াই থেকে ৩ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হলেও এখন গড়ে প্রতিদিন রপ্তানি হচ্ছে ১ থেকে দেড় লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের কয়েক ধরনের পণ্য। বন্দরের সার্বিক রপ্তানি বাণিজ্য কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। এছাড়া আমদানি খরচ মিটিয়ে ভালো মুনাফা না হওয়ায় বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিও বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। আখাউড়া কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ১৫ হাজার ৪৯০ টন তাজা মাছ ভারতে রপ্তানি হয়েছে। যার মূল্য ৩২৯ কোটি ১১ লাখ ৭ হাজার ৮৪০ টাকা। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ১১ হাজার ৪১৩ টন মাছ রপ্তানি হয়েছে। যার মূল্য ২৫২ কোটি ৬৩ লক্ষ ৪৯ হাজার ৩০৫ টাকা। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে (জুলাই হতে ডিসেম্বর ) এই স্থলবন্দর দিয়ে ৪ হাজার ৪৩৭ টন মাছ ভারতে রপ্তানি হয়েছে। যার মূল্য ১১০ কোটি ৬৬ লাখ ৭০ হাজার ৪৪৩ টাকা।

আখাউড়া স্থলবন্দরের মাছ রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক মিয়া বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে তাজা মাছ পাচারের কারণে আমাদের বরফায়িত মাছের চাহিদা কমে যাচ্ছে। এতে সরকারও বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, চলমান ডলারসংকট কেটে গেলে, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আবার গতি পাবে। মাছ পাচারের অভিযোগের বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অংগ্যজাই মারমা বলেন, মাছ পাচার রোধে বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে তৎপর থাকার নির্দেশনা  দেওয়া হয়েছে। সুলতানপুর ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মুহাম্মদ আশিক হাসান উল্লাহ বলেন, সীমান্ত দিয়ে ভারতে মাছ পাচার হচ্ছে অনেক দিন থেকেই। মাছ যাতে পাচার না হয় সেই বিষয়ে বিজিবি সব সময় সজাগ আছে।

ইত্তেফাক/ইআ