বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পাইকগাছায় জীবন-জীবিকায় জড়িত ঘোড়ার গাড়ি

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩:৫১

ঘোড়া আর ঘোড়ার গাড়ি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বহন করলেও  খুলনার পাইকগাছা কপিলমুনিসহ আশপাশ এলাকায় ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে মালামাল পরিবহন করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, বেশিরভাগ এলাকায় চিংড়ির চাষ করায় বড় বড় বিলগুলোতে বাঁধ দিয়ে খণ্ড খণ্ড করা হয়েছে। এসব এলাকায় স্বাভাবিকভাবে যান চলাচল করতে পারে না। সেজন্য বিভিন্ন মালামাল পরিবহনের কাজে ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার হয়ে থাকে এ উপজেলায়। গাড়িগুলো বিভিন্ন ইটভাটা থেকে নির্মাণাধীন সামগ্রী প্রতিষ্ঠান কিংবা বসতবাড়িতে পৌঁছে দেয়। এছাড়া বালির আড়ৎ এবং নদীর চর অথবা বিল থেকে মাটিবহন করার কাজে ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেড় শতাধিক ঘোড়ার গাড়ি রয়েছে। প্রতিটি গাড়ি এ ধরনের কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে।

গদাইপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের হালিম গাজী বলেন, আমি ১০ বছর ধরে ঘোড়ার গাড়ি চালাই। ইট, বালি ও মাটিসহ বিভিন্ন মালামাল বহন করে থাকি। প্রতি গাড়িতে প্রায় সাড়ে ৩শ ইট বহন করা যায়। প্রতিদিন এক থেকে দুইবার বহন করি। প্রতি হাজার ইট বহন করতে আমরা ৭০০ টাকা ভাড়া নেই। এতে প্রতিদিন আমাদের ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। এ কাজ করেই আমাদের সংসার চলে। তবে ঘোড়ার খাবারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘোড়ার পরিচর্যা করা কঠিন হচ্ছে অনেকেই জানান।

বর্তমান যান্ত্রিক যুগে এ ধরনের যানবাহনের খুব বেশি প্রচলন না থাকলে ও পরিবেশ ও শব্দ দূষণ রোধে ঘোড়ার গাড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সচেতন এলাকাবাসী।

নিরাপদ সড়ক চাই নিসচা উপজেলা শাখার সহ সভাপতি আব্দুল আজিজ জানান, এ ধরনের যানবাহনে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি খুবই কম থাকে। 

কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়াদ্দার বলেন, আমার ইউনিয়নে অর্ধশাধিক ঘোড়ার গাড়ি রয়েছে। মালামাল পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ি পরিবেশবান্ধব। এরা আমাদের পরিবেশের জন্য হুমকি নয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম জানান, অভ্যন্তরীণ নির্মাণ সামগ্রীর মালামাল পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ির কোনো জুড়ি নাই। এধরনের মালামাল বহনে ট্রলিসহ অন্যান্য যানবাহন যেমন আমাদের রাস্তাঘাটসহ নানাভাবে ক্ষতি করছে। বিশেষ করে পরিবেশ ও শব্দ দূষণ করছে সেখানে ঘোড়ার গাড়ি পরিবেশ ও শব্দ দূষণরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তবে এ ধরনের কাজে ঘোড়ার ওপর প্রচুর শারীরিক চাপ সৃষ্টি হয়। এজন্য ঘোড়ার যথাযথ যত্ন এবং পরিচর্যা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন ইউএনও।

ইত্তেফাক/আরএজে