বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘চিপ যুদ্ধ’ : যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নতুন আধিপত্যের লড়াই

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩, ০১:৩১

‘সেমিকন্ডাক্টর চিপ’ শিল্প বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক বিশাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ কারণেই এই শিল্পের বাজার ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে একধরনের অঘোষিত ‘যুদ্ধ’ শুরু হয়ে গেছে। কে কাকে হারিয়ে এই যুদ্ধে জয়ী হবে সে লক্ষ্যেই তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। সম্প্রতি ইনসাইড ওভারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ নিয়ে  দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা চললেও পাল্লা অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই ভারী। বিবিসি ও এএনআই

প্রতিবেদনে চিপ মার্কেটের বর্তমান সম্পদ ৫০০ বিলিয়ন ডলারের কথা বলা হয়েছে, যা আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাই এর সাপ্লাই চেইন নিয়ন্ত্রণ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন মরিয়া হয়ে উঠেছে। বলা হয়েছে, এর নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকবে সে-ই হবে ভবিষ্যৎ সুপার পাওয়ার। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, চীন চিপ তৈরির প্রযুক্তির মালিক হতে চায় যা এখনো মার্কিন ডোমেইনে চলছে। আর সে কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনে এই প্রযুক্তির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। ফেদরিকো গিউলিয়ানির ঐ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, চীন এটিকে শেষ পর্যন্ত সামরিক শক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সুপার কম্পিউটারে ব্যবহার করবে। ফলশ্রুতিতে যুক্তরাষ্ট্র গত বছর অক্টোবরে চিপগুলোর রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। যাতে করে এ সংক্রান্ত মার্কিন প্রযুক্তির সফটওয়্যার চীনে বিক্রি অসম্ভব হয়ে পড়ে। কেননা যুক্তরাষ্ট্র যেকোনোভাবে এর বাজার ধরে রাখতে চাইছে। কোনোভাবেই তারা এ খাতে চীনের নিয়ন্ত্রণ হতে দেবে না।

এতদিন বিশ্বব্যাপী সংঘাতের নানা দিক ছিল। ছিল নানা কূটনৈতিক বিবাদ। কিন্তু এবার যুক্ত হলো নতুন এক দিক। আর তা হলো, একটুখানি সিলিকনের টুকরো দিয়ে তৈরি চিপসের বাজার দখলে মরিয়া বিশ্বের শক্তিশালী দুই দেশ। তবে এর দখলে রাখার পিছনে যথেষ্ট শক্ত কারণও রয়েছে। তা হচ্ছে এটি নিয়ন্ত্রণে চলে সে দেশ এটিকে সামরিক শক্তিতে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করবে। বিশ্ব চলে যাবে আরো এক ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আর সে বিষয়টিই এখন সামনে আরো জোড়াল হচ্ছে।

 

ইত্তেফাক/ইআ