বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জোরপূর্বক থানায় নেওয়ার সময় পুলিশের সামনেই নারীর বিষপান

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় জোরপূর্বক মৌসুমী আক্তার (২৫) নামের এক নারীকে থানায় নেওয়ার চেষ্টাকালে ক্ষোভে পুলিশের সামনেই বিষপান করেছেন ভুক্তভোগী। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার নুরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মৌসুমী উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের আইয়ুব খানের মেয়ে।

মৌসুমির মা শাহানা বেগম হাসপাতাল চত্বরে অভিযোগ করে বলেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে আখাউড়া থানার এএসআই আব্দুল আজিজ ৮/১০ জন পুলিশ নিয়ে আমার বাড়িতে এসে আমার মেয়েকে জোরে আটক করে থানায় নিয়ে যেতে চায়। আমার মেয়ে তখন তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করে। মেয়ে বলে, আমার দুইটা ছেলে আছে, আমার স্বামী পাগল, আমি থানায় যাবো কেন? এ সময় আজিজ দারোগা বলে ওসি সাহেব তাকে নিয়ে যেতে বলেছে। এ সময় আমি পুলিশকে বলি, আমার মেয়ের হার্টের অসুখ, তাকে নিয়েন না। দরকার হলে আমি থানায় যাবো।

শাহানা বেগম বলেন, এ সময় পুলিশ জোরাজুরি করে ধরে নিতে চাইলে আমার মেয়ে ক্ষোভে বিষ খেয়ে ফেলে। কিন্তু পুলিশের সামনে বিষপান করলেও কেউ তাকে ফেরাতে আসেনি। পরে আমরা মেয়েকে প্রথমে আখাউড়া হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান স্টমাক ওয়াশ করে চিকিৎসা দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে পাঠায়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা নিয়ে যাই। বর্তমানে আমার মেয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা বেশি ভালো না।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসক ওই নারীকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। আখাউড়া থানার ওসি আসাদুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকেও দেখা যায়। ওসি নিজে তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন। পরে রোগীকে ঢাকায় নেওয়া হলে তখনও থানার এসআই আবু ছালেক সঙ্গে যান।

আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. লুৎফুর রহমান বলেন, রোগীর স্টমাক ওয়াশ করে বিষ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আখাউড়া থানার ওসি আসাদুল ইসলাম বলেন, কিছু মাদক উদ্ধার হয়েছিল। আমাদের কাছে তথ্য ছিল মাদকগুলো তাদের। এজন্য মৌসুমিকে আনতে আমি পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো ওয়ারেন্ট ছিল না। তার ঘরে কিছু পাওয়া যায়নি।

ওসি বলেন, তারপরেও যদি এএসআই আজিজের কোনো অপরাধ থাকে, তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এসকে