অস্ত্র-গুলিসহ ‘জলদস্যু বাহিনী প্রধান’ গ্রেপ্তার, পরিবারের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৯, ১৬:৫২

নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলাসহ উপকূলীয় নদী পথ এলাকার  বিভিন্ন অপরাধের হোতা জলদস্যু বাহিনীর প্রধান ফরিদ কমান্ডারকে (৪৫) আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে কোস্টগার্ড। 

মঙ্গলবার ভোরে হাতিয়ার বয়ারচরের সোলেমান বাজার এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে ৪টি বন্দুক, একটি রিভলবার, একটি পাইপগান, ৩ রাউন্ড গুলি, একটি চাপাতি, একটি ছোরা ও দুইটি মোবাইল ফোন সেটসহ অস্ত্র তৈরির বেশ কিছু সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। গ্রেপ্তারকৃত ফরিদ পার্শ্ববর্তী  লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরগাজী গ্রামের সালেহ আহমদের ছেলে। সে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের  ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য বলে জানা যায়।

ফরিদ কমান্ডারকে গ্রেপ্তারের পর সকাল সাড়ে ৮টায় নোয়াখালী সার্কিট হাউসে কোস্টগার্ডের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা লে. কমান্ডার এম হামিদুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এসময় তিনি বলেন, ফরিদ নিজ বাড়িতে বসে ডাকাতির জন্য গোপন বৈঠক করার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। 

আরো পড়ুন: দুই মামলায় খালেদা জিয়ার ৬ মাসের জামিন

তিনি আরো বলেন, সে নোয়াখালী উপকূলের জেলেদের আতঙ্ক। দীর্ঘদিন ধরে হাতিয়ার মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরের মাছ ধরা নৌকায় ডাকাতি ও জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতেন তিনি। গত ইলিশ মৌসুমে এই জলদস্যু বাহিনীর বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১০০ জন জেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ বছরও ইলিশ মৌসুম শুরুতে ফরিদ বাহিনীর বিরুদ্ধে নদীতে জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়সহ নানা অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে নোয়াখালীর সদর (সুধারাম), সুবর্ণচর, হাতিয়া ও লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন থানায় ২২টিরও বেশি মামলা রয়েছে।  

এসময় উপস্থিত ছিলেন কাস্টগার্ডের হাতিয়া স্টেশনের কমান্ডার লে মাহমুদ সাব্বিরসহ অভিযানে অংশ নেয়া সদস্যরা।

এদিকে, নোয়াখালী প্রেসক্লাবে দুপুরে ফরিদ কমান্ডারের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার ও ছেলে ফয়জুর রহমান জীবন পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, ফরিদ নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে কোস্টগার্ড তুলে নিয়ে আসে। এ সময় তার কাছে কোনো প্রকার অস্ত্র পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে কোস্টগার্ড পুরাতন অকেজো কতগুলো অস্ত্র দিয়ে সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এমন মিথ্যা ও সাজানো ঘটনার তীব্র নিন্দা ও এর বিচার দাবী করেন তারা। তারা আরো বলেন, ফরিদ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য এবং রামগতি উপজেলা যুবলীগের সদস্য। তিনি পেশায় একজন মৎস্য ব্যবসায়ী। নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলা ও লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতী উপজেলার সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। রামগতীর পক্ষে তার ফরিদ সক্রীয় বিধায় তাকে মামলাসহ নানভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমআই