দেশের বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা বলেছেন, একের পর এক বার ও বেঞ্চের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। বার ও বেঞ্চের মধ্যে সম্পর্কের যে অবনতি তা উন্নতিতে আইনজীবীদের অভিভাবক হিসাবে বার কাউন্সিলকেই ভূমিকা নিতে হবে। গতকাল শনিবার বার কাউন্সিল আয়োজিত বর্ধিত সভায় আইনজীবী নেতারা এ কথা বলেন।
বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন বলেন, বার ও বেঞ্চ একে অপরের পরিপূরক। যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে। আইনজীবী নেতাদের আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান তিনি। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচারাঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে তা প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রীকে অবহিত করুন। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা কোনভাবেই কাম্য নয়।
এর আগে দেশের ৬৪ জেলা বারের সভাপতি ও সম্পাদকরা বার কাউন্সিলের বর্ধিত সভায় অংশ নেন। সভায় আইনজীবীদের বেনোভোলেন্ট ফান্ডসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজুর রহমান মন্টু বলেন, বার ও বেঞ্চের মধ্যে সমন্বয় করতে বার কাউন্সিলকেই ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি আইনজীবীদের অভিভাবক হিসাবে বার কাউন্সিল আমাদের পাশে থাকবেন। বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি লস্কর নুরুল হক বলেন, একের পর এক জেলা আদালতে বার ও বেঞ্চের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে চলেছে। যে ভাষায় আইনজীবীদের কথা বলা হয় তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পেশকার ও পিয়নরা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বললে বিচারকরা কোর্ট স্টাফের পক্ষে অবস্থান নিয়ে থাকেন। এ নিয়ে বার ও বেঞ্চের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে।
রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, বিচারাঙ্গনে দুর্নীতি ঢুকেছে। পেশকার হিসেবে কারা নিয়োগ পাচ্ছেন সেটা খতিয়ে দেখেন। বার ও বেঞ্চের মধ্যে যে সম্পর্ক তা দিনে দিনে নিম্নগামী হচ্ছে।
পরে বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা বলেন, নবীন আইনজীবীরা এই পেশায় আসার পরই তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারে বার কাউন্সিল। যদি এই প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয় তাহলে আইনজীবী পেশার মান আরও বৃদ্ধি পাবে। সুসম্পর্ক বজায় থাকবে বার ও বেঞ্চের মধ্যে। আইনজীবী নেতারা বলেন, আদালতে বিচারের অবস্থা নিম্নমুখী। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নামে নানাভাবে অবিচার হচ্ছে। দ্রুত নিষ্পত্তি হোক কিন্তু বিচারের মান যেন ঠিক থাকে। কারা আইনজীবীদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করতে চায় তাদের দিকেও আমাদের লক্ষ্য রাখা উচিত।
সভায় বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ রেজাউর রহমান, বার কাউন্সিল সদস্য মোখলেসুর রহমান বাদল, সাঈদ আহমেদ রাজা, এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
হট্টগোল
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক হিসেবে দাবি করে বক্তব্য রাখছিলেন বার কাউন্সিল সদস্য রুহুল কুদ্দুস কাজল। এ নিয়ে আওয়ামী সমর্থিত আইনজীবীরা প্রতিবাদ জানান। তার জবাব দিতে গিয়ে হট্টগোল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল ও বার কাউন্সিল চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
