এলপি গ্যাসের বাজার অস্থির

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৭:০১

বেসরকারি কোম্পানির বোতলজাত এলপি গ্যাসের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। ১২ কেজি ওজনের প্রতি বোতলের দাম বেড়েছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। সরকার নির্ধারিত মূল্য পাত্তা দিচ্ছেন বিক্রেতারা। এতে বিপাকে পড়েছেন এলপি গ্যাস ব্যবহারকারী ক্রেতারা। আমদানিকারকরা জানান, চলতি ফেব্রুয়ারির শেষে গ্যাসের দাম আরো বাড়বে। কোম্পানিগুলোর মজুত কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়ে গেছে। লাইনের গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানায় এলপি গ্যাসের ব্যবহার বেড়েছে। অন্যদিকে ডলার সংকটে এলপিজির আমদানি কমে যাওয়ায় দেশীয় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।

বাসাবাড়ি ও শিল্পে গ্যাসসংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। সরবরাহ কম এমন অজুহাত তুলে বেসরকারি এলপি গ্যাস বিপণন কোম্পানি গুলো হঠাৎ দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। খুচরা বাজারে ১২ কেজি ওজনের বিভিন্ন কোম্পানির এলপি গ্যাস ১ হাজার ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ সরকারিভাবে বিইআরসি ১২ কেজি ওজনের এলপি গ্যাস ১ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কিন্তু পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্য পাত্তা দিচ্ছেন না বিপণন কোম্পানি। এতে আবাসিক গ্রাহকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতির মধ্যে এলপি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিতে মানুষের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। খুচরা বাজারে বাড়তি দামে এলপি গ্যাস বিক্রিতে সরকারিভাবে কোনো তদারকি হচ্ছে না। ফলে বিক্রেতারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

বহদ্দারহাটের খুচরা এলপি গ্যাস বিক্রেতা শৈবাল দাশ বলেন, ১২ কেজি ওজনের এলপি গ্যাস ১ হাজার ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বিপণন কোম্পানিগুলো দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় আমাদের বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বাড়তি দামে না কিনলে বিপণন কোম্পানিগুলো সরবরাহ দিচ্ছে না।’

চট্টগ্রামে গত কয়েক মাস যাবত লাইনের গ্যাসে চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। সকাল ১০টার আগেই নগরীর বিভিন্ন স্থানে আবাসিকে রান্নার চুলা জ্বলছে না। ছোট বড় শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর ভারী শিল্পকারখানা উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। সম্প্রতি শিল্পে গ্যাসে দাম তিনগুণ বাড়ানো হয়েছে। এতে শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।

বিজিএমইএ সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন লাইনের গ্যাসসংকটে শিল্পে এলপি গ্যাসের ব্যবহার বেড়েছে। ডলার সংকটে এলপিজি আমদানি কম হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট শিল্প খাত বড় ধরনের চাপে পড়েছে। উৎপাদন কমে গেছে এবং খরচ বেড়ে যাচ্ছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।’

দেশে ২৫টির মতো এলপি গ্যাস বিপণন কোম্পানি রয়েছে। তার মধ্যে গুটিকয়েক কোম্পানি এলপি গ্যাস আমদানি করে থাকেন। তবে সবার বটলিং প্ল্যান্ট রয়েছে। ফলে এলপি গ্যাসের বাজারও তারা নিয়ন্ত্রণ করছে। আমদানি কারকরা জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে গ্যাসের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও আমেরিকা রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি করে চাহিদা মেটাতেন। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া গ্যাস বিক্রি বন্ধ করে দেয়। পশ্চিমা দেশগুলো এত দিন তাদের কাছে মজুত থাকা গ্যাস দিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়েছে। এখন তাদের মজুত কমে এসেছে। ফলে এসব দেশ এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে জ্বালানি কিনতে ঝুঁকে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে অন্য দেশগুলোও জ্বালানি আমদানি করে থাকেন। এখন মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়ে গেছে।

ইত্তেফাক/ইআ