শুক্রবার, ০৯ জুন ২০২৩, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

স্বল্প আয়ের মানুষের পাত থেকে উঠে যাচ্ছে মাংস?

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৩:০০

স্বল্প আয়ের মানুষের পাত থেকে কি উঠেই গেল মাংস! কোনটি কিনবেন গরু, খাসি নাকি মুরগির মাংস? গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি খাসির মাংস ১ হাজার টাকা ও গরুর মাংস ৭০০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগিরও। এতদিন যা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কিংবা বড়জোর ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। তা এখন ২০০ টাকা কেজি ছাড়িয়ে গেছে।

সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) তাদের দৈনন্দিন বাজারদরের প্রতিবেদনে দাম বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। সরকারের এ সংস্থাটি জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে গরু, খাসি ও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। টিসিবির প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে, বর্তমানে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা ও ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যদিও বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি এখন ২০০ থেকে ২১০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগেও যথাক্রমে ৬৬০ থেকে ৭০০ টাকা, ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা ও ১৪৫ থেকে ১৬০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হয়েছে। টিসিবির প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, গত এক বছর আগে রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫৮০ থেকে ৬২০ টাকা, খাসির মাংস ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা ও ব্রয়লার মুরগি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ১৮.৩৩ শতাংশ, খাসির মাংস ২৩.৫৩ শতাংশ ও ব্রয়লার মুরগির দাম ৩১.০৩ শতাংশ বেড়েছে।

গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজারে বাজার করতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আমজাদ কবির মাংসের দাম নিয়ে হতাশা জানিয়ে বলেন, যেভাবে লাগামহীনভাবে মাংসের দাম বেড়েছে তাতে আমাদের মতো চাকরিজীবীরা মাসেও একদিন গরু, খাসির মাংস কিনতে পারবে না। কাওরান বাজারের মাংস বিক্রেতা হাকিম বলেন, গোখাদ্যের দাম বাড়ায় অনেক বেশি দামে গরু কিনতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি। এসব কারণে গরু, খাসির দাম অনেক বেশি পড়ে যায়। যার প্রভাব পড়ছে মাংসের ওপর। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী মাসেই পবিত্র রমজান শুরু হচ্ছে। প্রতি বছর রমজানকে উপলক্ষ করে শবে বরাতের আগের রাতেই মাংসের দাম বাড়ানো হয়। কিন্তু এবার প্রায় এক মাস আগেই তা বাড়ানো হলো, যাতে কোন ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে না হয়। এদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়ায় এ খাতের বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি সুমন হাওলাদার এ অভিযোগ করে বলেন, বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে সিন্ডিকেট করে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, পোলট্রি খাবার (ফিড), মুরগির বাচ্চা ও মেডিসিনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছু উৎপাদন করছে করপোরেট কোম্পানিগুলো। তাদের দৌরাত্ম্যের সঙ্গে টিকতে পারছে না দেশের সাধারণ খামারিরা। ইতিমধ্যে অনেক ছোট খামার বন্ধ হয়ে গেছে। ১ লাখ ৬০ হাজার খামারের মধ্যে, বর্তমানে ক্ষুদ্র খামারের সংখ্যা ৬০ হাজারে ঠেকেছে। তারপরও সব খামারে মুরগি নেই। আর এর সুযোগ নিচ্ছে এ খাতের কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা ইচ্ছামতো ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বাড়াচ্ছে।

গতকাল বাজারে প্রতি হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হয় ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা। যা সপ্তাহের ব্যবধানে হালিতে ২ টাকা বেশি। এক মাস আগে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। এ হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে প্রতি হালি ডিমে দাম বেড়েছে ২২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। মাংসের পাশাপাশি বাজারে মাছের দামও বেড়েছে। মাসখানেক আগেও বড় আকারের প্রতি কেজি তেলাপিয়া ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেছে। তা এখন ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই অবস্থা পাঙাশের ক্ষেত্রেও। প্রতি কেজি পাঙাশ মাছে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে তা ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে অন্যান্য মাছের দামও। গতকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছের মধ্যে চাষের রুই, কাতল ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ৯৫০ টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৭৫০ টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, বড় আকারের টেংরা ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, শিং ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, কই ১৮০ থেকে ২২০ টাকা ও বাইম ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন