ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বার ও বেঞ্চের মধ্যে চলা বিরোধের অবসান কোন পথে! দুই বিচারক ও নাজির প্রত্যাহারের দাবিতে টানা এক মাস ধরে চলছে আদালত বর্জন কর্মসূচি। আইনজীবীদের আদালত বর্জনের কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে বিচারকাজে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এই অচলাবস্থা ও বিরোধের নিরসন কোন পথে হবে, সেটাই ভাবিয়ে তুলছে সাধারণ বিচারপ্রার্থী জনগণকে। আদালত বর্জনের কর্মসূচি চলায় বন্ধ রয়েছে সব ধরনের বিচারকাজ। এই বিচারকাজ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেখানকার বিচারপ্রার্থী জনগণ। ধার্যকৃত দিনে দূরদূরান্ত থেকে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে আসছেন। কিন্তু আইনজীবীরা মামলা পরিচালনা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা আবার হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এদিকে ধার্যকৃত দিনে মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি না হওয়ায় পুনরায় শুনানির দিন ধার্য হচ্ছে। বাড়ছে মামলার জট।
এদিকে আইনজীবীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা জজ আদালতের নাজির মো. মোমিনুল ইসলামকে ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। যদিও বদলি আদেশে প্রশাসনিক কারণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আইনজীবীদের দাবি শুধু নাজিরকে বদলি করলেই হবে না, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারককেও বদলি করতে হবে। আইনজীবীদের দাবির মুখে যদি দুই বিচারককে বদলি করা হয় তাহলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের মধ্যে কী প্রভাব পড়ে সেটাও ভাবনায় রয়েছে বিচার প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের মধ্যে।
অধস্তন আদালতের একাধিক বিচারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা জজ শারমিন নিগার এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ ফারুকের যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। বিচারকাজ পরিচালনায় তাদের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। তাদেরকে বেঞ্চ থেকে প্রত্যাহারের দাবিতে আইনজীবীদের আদালত বর্জনের মতো কর্মসূচি অনাকাঙ্ক্ষিত।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতের দুই বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় দুটি আদালত অবমাননার রুল হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি রুলের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ তিন আইনজীবী ঐ সময়ের মধ্যে রুলের জবাব দেওয়ার জন্য সময় পেয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট তানভীর ভূঞা ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের দাবি ছিল দুই বিচারক ও নাজিরকে বদলির। আমাদের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল দাবি পূরণের। কিন্তু দাবি পূরণ না হওয়ায় আমরা আবারও আদালত বর্জনের কর্মসূচি নিয়েছি। তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী আইন অঙ্গনের অভিভাবক। তিনি যেভাবে আমাদের সমাধান দেবেন সেটাই মেনে নেব। বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, বিচারপ্রার্থী জনগণের জন্যই আমাদের আন্দোলন। তাদের স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিতে গিয়েই তো আমরা ঝামেলায় পড়েছি। কিছু পেতে গেলে কষ্ট করতেই হয়। আদালত অবমাননার রুলের বিষয়ে অ্যাডভোকেট তানভীর বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি আমাদের আইনজীবী নেতা। দুঃসময়ে তিনি আমাদের সহযোগিতা করেছেন। উনি রবিবারের মধ্যে একটা ফায়সালা করে দিতে চেয়েছেন। উনি যদি ফায়সালা করে দেন আমরা ঠকলেও তার সিদ্ধান্ত মেনে নেব। সুপ্রিম কোর্ট বার সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুন নূর দুলাল বলেন, নাজির বদলির সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। আশা করছি একটা ইতিবাচক ফায়সালা হবে।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা ইত্তেফাককে বলেন, বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে প্রতিটি বারকেই আমাদের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সেটা যেন কাউন্সিলকে জানানোর পাশাপাশি বিচার বিভাগের অভিভাবক প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। যাতে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ার আগেই একটা সমাধান দেওয়া সম্ভব হয়।
