প্রায় ১৪০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নানা সমস্যার মধ্যে মানবেতর দিনাতিপাত করছেন বন্দিরা। ১ হাজার ৮৫৩ জনের ধারণক্ষমতার কারাগারে প্রায় ৭ হাজার বন্দিকে রাখা হচ্ছে। ছয়টি বন্দি রাখার ভবনের মধ্যে নানা সমস্যা বিরাজমান। একটি কক্ষে অসংখ্য বন্দিকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। কারা অভ্যন্তরে নতুন করে ভবন নির্মাণের মতো খালি জায়গাও নেই। কারাগারের আশপাশে বেড়েছে লোকালয়। কারা অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, পুকুর, প্যারেড মাঠ নেই। নেই শাকসবজি চাষের জন্য খালি জমি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থা অপ্রতুল। কারাগারে গ্যাস-সংকট প্রকট।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, সীতাকুন্ডের জঙ্গল সলিমপুরে প্রচুর খাস জমি অবৈধ দখলে আছে। এসব জমি উদ্ধার করা গেলে সেখানে কিছু জায়গা কারাগারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যে কারা কর্তৃপক্ষ জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় কারাগারের জন্য জায়গা চেয়েছেন।’
কারাগার সংশ্লিষ্টরা জানান, অপ্রতুল ব্যবস্থার মধ্যে বন্দিদের সামাল দেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। কারাবন্দিরাও মানুষ। কিন্তু অপ্রতুল ব্যবস্থাপনায় বন্দিরা মানবেতর দিনাতিপাত করছেন। ধারণক্ষমতার তিন/চার গুণ বন্দি রাখতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় চট্টগ্রাম শহরের পার্শ্ববর্তী উপজেলা পটিয়া, আনোয়ারা ও সীতাকুন্ড এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের দাবি করেছেন। এসব এলাকায় প্রচুর সরকারি খাস জমি রয়েছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন বলেন, বন্দি বেড়ে যাওয়ায় আমাদের জায়গা ছোট হয়ে গেছে। কারাগারের আশপাশে লোকালয় বেড়ে গেছে। খালি জায়গা না থাকায় কারা অভ্যন্তরে যেসব সুযোগ সুবিধা থাকার কথা তার ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। খেলার মাঠ নেই। তাই কারাগার স্থানান্তরের জন্য জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সরকারি খাস জমি বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
১৮৮৫ সালে চট্টগ্রাম শহরের লালদীঘি পাড় সংলগ্ন স্থানে ১৪ দশমিক ৪০ একর জায়গায় চট্টগ্রাম জেলা কারাগার স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্নীত করা হয়। প্রথম পর্যায়ে কারাবন্দিদের রাখার জন্য পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নামে তিনটি ভবন নির্মাণ করা হয়। প্রতিটিতে বন্দি রাখার ধারণক্ষমতা ৩০০ জনের। পরবর্তীতে বন্দির চাপ বেড়ে যাওয়ায় সাংগু, কর্ণফুলি ও হালদা নামে আরো তিনটি ভবন নির্মাণ করা হয়। এগুলোর প্রতিটিতে বন্দি রাখার ধারণক্ষমতা ২৪০ জন করে। সেই হিসাবে ৬টি বন্দিশালায় ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৮৫৩ জনের। কিন্তু পর্যায়ক্রমে বন্দির চাপ এতো বৃদ্ধি পেয়েছে বর্তমানে ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি বন্দি রাখতে হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, আগের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা বন্দিশালার অবকাঠামো অত্যন্ত নাজুক। ভবনে পানি সরবরাহের পাইপগুলোতে আয়রণ জমে ব্লক তৈরি হওয়ায় পানি ৫তলা বিশিষ্ট ভবনের ওপরে স্থাপিত ট্যাংকিতে তোলা যাচ্ছে না। ফলে বন্দিদের নিচে এসে ব্যবহারের জন্য ওপরে পানি নিয়ে যেতে হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে পাইপ ফেটে যাওয়ায় ময়লা বের হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
জানতে চাইলে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, পাইপ লাইন অনেক পুরনো হওয়ায় আয়রণ জমে গেছে। ফলে পাইপ লাইনে চাপ বাড়ানো যাচ্ছে না। পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পাইপ লাইনের কাজ চলছে।
