দীর্ঘ ১ মাস পর অবশেষে নিরসন হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আদালতের অচলাবস্থা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ ব্যতীত সব আদালত থেকে বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি।
মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে ওই আদালত ব্যতীত সব আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন আইনজীবীরা। আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার খবরে দুর্ভোগে থাকা বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
আইনজীবীদের দাবি পূরণে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশেষ সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট তানভীর ভূঁইয়া।
তানভীর ভূঁইয়া জানান, আদালতের সমস্যা নিরসনে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, আইন সচিব গোলাম সারোয়ারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।
সেখানে আইনজীবীরা বলেস, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ ফারুকের বিষয়ে কোনো ছাড় দেবেন না। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। সভা শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ ব্যতীত সব আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মফিজুর রহমান বাবুল বলেন, আসামিদের জামিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সেই মানবিক দিক বিবেচনা করে আইনজীবীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, দীর্ঘদিন কোর্ট বন্ধ থাকার কারণে প্রায় ৩০/৪০ হাজার মামলার জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আইনজীবীরা আদালতে এলে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমবে।
গত ১ ডিসেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ আইনজীবীরা মামলা দাখিল করতে গেলে বিচারক মোহাম্মদ ফারুক মামলা না নিয়ে আইনজীবীদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করেন আইনজীবীরা। এ অভিযোগে আইনজীবীরা জেলা জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক ও আদালতের নাজির মোমিনুল ইসলামের অপসারণ চেয়ে দফায় দফায় আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করে।
এছাড়াও বিচারকের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও অশালীন শ্লোগান দেওয়ার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৪ আইনজীবীকে দু’দফায় তলব করেছে উচ্চ আদালত।
