‘আমাদের মানবাধিকার কোথায়?'

তিন প্রজন্মে বিএনপি-জামাতের নির্যাতনের শিকার পরিবাগুলোর মানববন্ধন

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২:২৬

মানবাধিকারের নামে বিদেশে বিএনপি-জামায়াত মিথ্যা তথ্য প্রদান করছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াত-বিএনপির নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারের সদস্যরা। তারা মুক্তিযুদ্ধকালে হওয়া গণহত্যার স্বীকৃতি এবং ৭৫’ পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানসহ বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে চালানো হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।

সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে সচেতন নাগরিক সমাজ ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত ‘বিএনপি-জামায়াত ও তাদের আন্তর্জাতিক দোসর আমাদের মানবাধিকারের কি হবে জবাব চাই’ শীর্ষক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, মানবাধিকারের ব্যবসা যারা করেন, তাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন, ৭১’সালে ত্রিশ লক্ষাধিক মানুষকে নির্বিচারে হত্যা, ১৪’ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যা, ৭৫’এ জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা, জাতীয় চার নেতাকে হত্যা এবং পরবর্তীতে সশস্ত্র বাহিনীর অনেক কর্মকর্তাকে হত্যার সময় কোথায় ছিল মানবাধিকার প্রশ্ন?’ 

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান পেছন থেকে তার লোক দিয়ে যখন দেশে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, তখন কোথায় ছিল মানবাধিকার। যারা এসব মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, তারাই আজ জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে। জাতির পিতার দুই কন্যা যখন দেশের বাইরে অনেক দুঃখ-কষ্ট নিয়ে অসহায় জীবনযাপন করেছিলেন তখন মানবাধিকার কোথায় ছিল? জাতির পিতাকে হত্যার পরবর্তী ৫ বছর জিয়াউর রহমান আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে গুম-খুন করেছিলো। তখন কোথায় ছিল মানবাধিকার?

লিটন বলেন, বিএনপি-জামায়াতের কিছু হলেই যারা মানবাধিকারের লঙ্ঘন খুঁজে পান, সেই তথাকথিত সুশীল সমাজকে বলতে চাই, মানবাধিকারের কথা আপনাদের মুখে শোভা পায় না। যখন বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অসংখ্য ঘটনা ঘটে গেছে, সেই সময় আপনাদের পাশে পাইনি। যারা বিভিন্ন সংগঠন বা সংস্থার নামে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন, যারা নির্বাচন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতে চান, বিদেশিদের প্রভাবিত করতে চান, দূতাবাসের মাধ্যমে বানোয়াট কথাবার্তা ও চিঠি দিয়ে বলতে চান বাংলাদেশে গণতন্ত্রের চর্চা নেই ও বিরোধী দলকে দমন করা হচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনারা যদি বিরোধী দলকে দমন করা বলতে চান তাহলে বিরোধী দল দিনের পর দিন পদযাত্রা, বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ করছে কীভাবে?

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, বিএনপি-জামায়াত ও তাদের আন্তর্জাতিক দোসররা বলার চেষ্টা করছে, বর্তমান সরকারের আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বেশি ঘটেছে। তারা ৭১’ সালের কথা শুনতে রাজি নন। যেখানে ত্রিশ লক্ষ বাঙালিকে হত্যা করা হয়েছিলো এবং চার লক্ষাধিক নারীকে অসম্মান করা হয়েছিলো। জাতিসংঘ এখনও ৭১’ সালের নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ৭৫’ সালের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইনডেমনিটি আইন দিয়ে খুনিদের বাঁচিয়ে দিয়েছিলো জিয়াউর রহমান। আমরা আমাদের নির্যাতিত মানুষদের কথা বলছি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও বিএনপি-জামাতকে বলব সেসব ইতিহাস স্মরণ করুন, শুনুন। শুধু একক ঘটনা তুলে ধরে আপনারা মানবাধিকারের অবক্ষয় করছেন।

বীরাঙ্গনা ফাতেমা আলী বলেন, বাবার বাড়ি, স্বামীর বাড়ি কোথাও ঠাঁই পাইনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আমার সঙ্গে বহু মেয়েকে একসঙ্গে এক কাতারে বিয়ে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে আমার পিতা হিসেবে আমার সেই বোনদের আজও বলি এখন কেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ওপর হামলা হবে? কেনো আমাদের বাংলাদেশে হামলাকারীরা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে?

২০১৩ সালে বিএনপির ‘অগ্নি সন্ত্রাসের শিকার’ ভুক্তভোগী এক নারী ভুক্তভোগী বলেন, ‘জজ কোর্টে আইনজীবী ছিলাম। সেদিন বাসে উঠলাম যাত্রী হয়ে। বাসটি শাহবাগ আসতেই বিএনপি-জামায়াতের ছোড়া বোমে বাসটিতে আগুন লেগে যায়। সবাই চিৎকার করছিলো। আমি নেমে যাই। সেখানে ৬ জন মারা যায়। শ্মশানের চিতার আগুন সড়কে দেখলাম। ১৩ সালে সেই ঘটনায় মানবাধিকার প্রশ্নে কেউ আমাদের কাছে আসেনি। শুধু জননেত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন। আমাদের চিকিৎসা দিয়েছেন। বিদেশি যারা মানবাধিকারের কথা বলে, তাদের প্রতি ধিক্কার আসে।’

সমাবেশে আরও সংহতি প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা, ১৯৭১, ১৯৭৫ ও ৭৭-৭৮ সালে হত্যার শিকার হওয়া ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ।

ইত্তেফাক/এএএম