কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরীর বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে হলে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সানজিদাসহ তার ৫/৬ জন সহযোগী ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে কিল, ঘুষি, চড়-থাপ্পড় ও শরীরে আলপিন ফুটিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়েছে। এছাড়া আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে।
রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনায় ইবি প্রশাসন চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শেখ হাসিনা হলের ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর রুমে গেস্ট হিসেবে উঠেন প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী। ছাত্রলীগ নেত্রী তাবাসসুমকে না জানিয়ে হলে উঠায় তাবাসসুম ওই ছাত্রীকে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। কিন্তু এতে কর্ণপাত না করায় ক্যাম্পাসে তাকে বকাবকি করেন ছাত্রলীগ নেত্রী তাবাসসুম। এরপর রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা হলের গণরুমে ডেকে নিয়ে তার ৫/৬ সহযোগীসহ রাতভর ওই ছাত্রীর ওপর চালায় পৈশাচিক নির্যাতন। অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, আলপিন ফুটিয়ে শরীরে ক্ষতসৃষ্টি ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা। ঘটনাটি প্রকাশ করলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী জানান, নির্যাতনের সময় পা ধরে বার বার মাফ চেয়েও নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি। চরম নিরাপত্তাহীনতায় তিনি ক্যাম্পাস ছেড়েছেন। তার স্বাভাবিক চলাফেরা ও পড়াশুনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে প্রক্টর, হল প্রভোষ্ট ও ছাত্র উপদেষ্টার কাছে ভুক্তভোগী ছাত্রী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী জানান, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন। ওই মেয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে। কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করছে বলে তার দাবি।
শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামসুল আলম জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা সেলিনা নাসরিন জানান, ঘটনা সত্য হয়ে থাকলে তা খুবই দুঃখজনক। ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগ দিয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনাটি শুনে মর্মাহত হয়েছি। তদন্তের পর দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
