এ জন্যই তো মানুষ বলে, অন্যকে নিয়ে কথা বলার আগে নিজের মুখটা সাবধান রাখাই ভালো। মুখ ফসকে কোনো একটা বিতর্কিত শব্দ বা বাক্য বেরিয়ে গেলে তার চড়া মূল্যই দিতে হয়। পেপ গার্দিওলার কথাই ধরুন। গত শুক্রবার এক সাংবাদিকের এক প্রশ্নের উত্তরে লিভারপুল ও ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন জেরার্ডকে নিয়ে বেখাপ্পা এক মন্তব্য করে বসেন ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ কোচ। এক বাক্যের সেই মন্তব্যের জন্য এবার ক্ষমা চাইতে হলো তাকে।
শুধু স্টিভেন জেরার্ডের কাছেই নয়, তার স্ত্রী এবং সন্তানদের কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন গার্দিওলা। আত্মসমর্পনই করেছেন ‘আমি লজ্জিত’ বলে! গত শুক্রবার গার্দিওলার সংবাদ সম্মেলনে হুট করেই ২০১৩-১৪ মৌসুমের শেষ ম্যাচে স্টিভেন জেরার্ডের সেই ‘পা পিছলে পড়ে যাওয়ার’ ঘটনাটি তুলে আনেন এক সাংবাদিক। সেবার দীর্ঘদিন পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল লিভারপুল। চেলসির বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচে জিতলেই চ্যাম্পিয়ন হতো লিভারপুল। জেরার্ডের লিভারপুল ম্যাচটা খেলতে নামার আগে টানা ১৬ ম্যাচে অপরাজিত ছিল এবং জিতেছিল টানা ১১ ম্যাচে। ফলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিভারপুল সমর্থকরা শিরোপা উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিল মাঠে। কিন্তু তাদের সেই শিরোপা-স্বপ্ন ভেস্তে যায় জেরার্ডের একটা ভুলে!
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে নিজেদের অর্ধে সতীর্থ সাখোর পাস নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে হঠাৎই পা পিছলে মাটিতে পড়ে যান জেরার্ড! ফাঁকায় বল পেয়ে ডেম্বা বা এগিয়ে দেন চেলসিকে। জেরার্ডের ভুলের ফসল এই গোলেই হার নিশ্চিত এবং শিরোপা স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যায় লিভারপুলের। ম্যাচে চেলসি ২-০ গোলে জিতলেও দ্বিতীয় গোলটা তারা করে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে। জেরার্ডের সেই পা পিছলানোর ঘটনা নিয়ে গার্দিওলাকে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। উত্তরে গার্দিওলা বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না, স্টিভেন জেরার্ডের পা পিছলানোর জন্য আমরা দায়ী কি না।’ ঠিক তখন শুরু হয়ে যায় সমালোচনার ঝড়। অনেকেই মনে করেন, গার্দিওলা কিংবদন্তি জেরার্ডকে অপমান করেছেন।
গার্দিওলাও নিজের ভুলটা বুঝতে পেরেছেন। আজ বুধবার আর্সেনালের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ গার্দিওলার সিটির। গতকাল ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে গার্দিওলা ক্ষমা চান জেরার্ডের কাছে, ‘আমি তাকে নিয়ে বোকার মতো অপ্রয়োজনীয় মন্তব্যের জন্য স্টিভেন জেরার্ড, তার স্ত্রী, সন্তান এবং তার পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমি আমার মন্তব্যের জন্য লজ্জিত। তার মতো এক জনের এমন ব্যবহার প্রাপ্য নয়।’
