সম্পর্ক নিয়ে অশান্তির কারণে নিজ প্রেমিকাকে খুন করলেন দিল্লির সাহিল গেহলট। এরপর সেই লাশ ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখেন। তারপর প্রেমিকা নিক্কি যাদবকে খুনের ঘণ্টাখানেক পর আরেকজনকে বিয়ে করেন তিনি। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে ভারতে । নিক্কিকে হত্যার অভিযোগে মঙ্গলবার সাহিলকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। খবর এনডিটিভি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিক্কির বয়স ২৩ বছর। আর ফার্মেসিতে স্নাতক শেষ করা সাহিলের বয়স ২৪ বছর। ২০১৮ সালে তাদের পরিচয়। এর পর প্রেমের সম্পর্কে জড়ান দুজনে। দিল্লিতে লিভ ইন সম্পর্কে থাকতেন দুজনে। সম্পর্কে টানাপোড়ান চলছিল তাদের।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি গাড়িতে বসেই ঝগড়া হচ্ছিল নিক্কি–সাহিলের। একপর্যায়ে রাগের মাথায় পাশে থাকা ডাটা কেব্ল হাতে তুলে নেয় সাহিল। সেটা নিক্কির গলা পেঁচিয়ে ধরে। এতে শ্বাসরোধ হয়ে নিক্কির মৃত্যু হয়। পরে পশ্চিম দিল্লিতে নিজেদের ধাবায় নিয়ে ফ্রিজের ভেতর ভরে রাখে নিক্কির লাশ। এরপর সেদিনই এক তরুণীকে বিয়ে করে সাহিল।
নিক্কির খোঁজ না পেয়ে স্থানীয় থানা–পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায় তার পরিবারের সদস্যরা। পরে নিক্কির সন্ধানে নামে দিল্লি পুলিশ। সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয় সাহিলকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিক্কিকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করে তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে পুলিশকে নিক্কির মরদেহের সন্ধান দেন সাহিল। হত্যাকারী সাহিলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিক্কির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অনেক আগেই সাহিলের বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেটা নিক্কি জানতো না। পরবর্তী সময়ে তা জানতে পেরে দুজনের সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়।
গত বছরের গত মে মাসে দিল্লিতে শ্রদ্ধা ওয়াকার নামে এক নারী হত্যার শিকার হন। এ ঘটনায় তাঁর লিভ ইন সঙ্গী আফতাব পুনাওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনে পুলিশ। শ্রদ্ধা ওয়াকারকে হত্যার পর লাশ কেটে ৩৫ খণ্ড করে পাশের জঙ্গলে ফেলে দিয়েছিল আফতাব। সে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছে। এই ঘটনা ভারতজুড়ে বেশ শোরগোল ফেলেছিল।
