শনিবার, ১০ জুন ২০২৩, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

রুয়ান্ডার কৃষকদের জন্য আসছে ই-ট্রাক্টর

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১০:৩৭

রুয়ান্ডায় কৃষকদের সহায়তার জন্য এমন একটি ট্রাক্টর তৈরি করা হচ্ছে যেটা সৌরশক্তি দিয়ে চলবে। এই ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করা ছাড়াও সেচ দেয়া, কীটনাশক ছিটানোর কাজও করা যাবে। রুয়ান্ডায় কিছু ট্রাক্টর দেখা যায়। তবে সেগুলো পুরনো৷ কারণ, ইউরোপে সেগুলো ব্যবহৃত হয়েছে। 

এগুলো থেকে অনেক শব্দ হয়। ডিজেলও সবসময় পাওয়া যায় না। আর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ডিজেল ব্যবহার আর্থিকভাবে লাভজনকও নয়। জার্মানির গাড়ি নির্মাতা ফলক্সভাগেন রুয়ান্ডার কিগালি বিশ্ববিদ্যালয় ও জার্মানির উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের সঙ্গে মিলে এমন ট্রাক্টরের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে।

রুয়ান্ডায় কৃষকদের সহায়তার জন্য এমন একটি ট্রাক্টর তৈরি করা হচ্ছে যেটা সৌরশক্তি দিয়ে চলবে।

সৌরশক্তি দিয়ে ব্যাটারি চালানো হয়। সৌরশক্তি শুধু পরিবেশবান্ধব নয়, এটা গ্রিড ছাড়াও ব্যবহার করা যায়। রুয়ান্ডার মাত্র অর্ধেক এলাকা গ্রিডের আওতায় আছে। রুয়ান্ডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যার্নার্ড ম্যানইয়াজিকিয়ি ও তার দল ব্যাটারির উন্নয়নে কাজ করছে যেন খুব শিগগির ই-ট্রাক্টর দিয়ে কাজ শুরু করা যায়।

রুয়ান্ডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যার্নার্ড ম্যানইয়াজিকিয়ি জানান, রুয়ান্ডার জন্য এমন ই-ট্রাক্টর প্রয়োজন। এটা খুব সহজে ব্যবহার করা যাবে। পরিবেশ দূষণ কম হবে। আর কৃষি উৎপাদনও বাড়বে। রুয়ান্ডার দ্রুত বেড়ে চলা জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে। 

রুয়ান্ডার মাত্র অর্ধেক এলাকা গ্রিডের আওতায় আছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটিতে দীর্ঘ সময় ধরে খরা চলায় অল্প সময়ে বেশি ফসল উৎপাদনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ই-ট্রাক্টরগুলোকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তোলা ফলক্সভাগেনের প্রকৌশলী লাঙ্গের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ফলক্সভাগেন গ্রুপ ইনোভেশন হোলগার লাঙ্গে বলছেন, 'লক্ষ্য হচ্ছে, এমন একটি ইলেকট্রিক ট্রাক্টর বানানো যেটা সহজে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া সেটি যেন সহজে রক্ষণাবেক্ষণ ও ঠিক করা যায়, সেটাও মাথায় রাখতে হচ্ছে।'

রুয়ান্ডার মাঠেঘাটে ব্যবহারের উপযোগী করতে ট্রাক্টরের প্রোটোটাইপকে আরও উন্নত করতে হবে।

রুয়ান্ডার মাঠেঘাটে ব্যবহারের উপযোগী করতে ট্রাক্টরের প্রোটোটাইপকে আরও উন্নত করতে হবে। তাই ভবিষ্যতে যারা এটি ব্যবহার করবেন তাদের সঙ্গে কথা বলছেন নির্মাতারা।

রুয়ান্ডা বিশ্ববিদ্যালয় পিয়েরে ডেমিয়েন বলেন, 'ই-ট্রাক্টরের ডিজাইন কেমন হওয়া উচিত, কোন কাজ করতে পারা উচিত এবং এই ট্রাক্টর দিয়ে আর কী করা যেতে পারে, তা আমরা জানতে চাই।'

রুয়ান্ডায় ট্রাক্টর দিয়ে শুধু চাষের কাজ করতে পারাই যথেষ্ট নয়।

রুয়ান্ডায় ট্রাক্টর দিয়ে শুধু চাষের কাজ করতে পারাই যথেষ্ট নয়। কৃষি উৎপাদন ও চাষের এলাকা তখনই বাড়ানো সম্ভব, যদি আরও কিছু কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা সম্ভব হয়। সেচের কাজেও ট্রাক্টরকে কাজে লাগানো যায় কিনা, তাও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

শিগগিরই এমন ট্রাক্টর বাজারে আসবে কিনা সে ব্যাপারে অনেক কৃষক নিশ্চিত না হলেও তারা একটা ব্যাপারে নিশ্চিত, এই ট্রাক্টর তাদের জীবনে পরিবর্তন আনবে। কৃষক ডোমিনান্ট মুকাকামানজি বলছেন, 'যদি আমরা সত্যিই এমন ট্রাক্টর পাই তাহলে এটা কৃষকদের জন্য মুক্তির বার্তা নিয়ে আসবে, কারণ তখন আমাদের অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে না।'

২০২৪ সালের মধ্যে ই-ট্রাক্টর বাজারে আসতে পারে।

২০২৪ সালের মধ্যে ই-ট্রাক্টর বাজারে আসতে পারে। আশা করা হচ্ছে, একজন কৃষকের বদলে পুরো একটি গ্রাম মিলে একটি ট্রাক্টর কিনবে। একটি সংগঠনের আওতায় পরিচালিত ট্রাক্টরটি অনেক কাজ সহজ করবে।

ইত্তেফাক/ডিএস