শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০২৩, ১৭ চৈত্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ইসলামের সঙ্গে মাতৃভাষার সম্পর্ক

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:৫৪

সব ভাষাই মহান স্রষ্টার শ্রেষ্ঠত্ব ও তার কুদরতের নিদর্শন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে কারিমে ইরশাদ করছেন, ‘আর তার নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। এতে জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা-৩০ রুম, আয়াত:২২)

আল্লাহ তাআলার কাছে কোনো ভাষাই ছোট নয়। তিনি সব ভাষা জানেন, বোঝেন। যে যেভাবেই তাকে ডাকে না কেন, তিনি বোঝেন, উত্তর দেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতাআলা ইরশাদ করছেন, ‘আর আমি প্রত্যেক রসুলকে তার জাতির ভাষায়ই ওহিসহ পাঠিয়েছি, যাতে করে সে স্পষ্টভাবে আমার কথা তাদের বুঝিয়ে দিতে পারে।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৪) আল্লাহ তায়ালা অন্যত্র ইরশাদ করছেন, তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন, তিনিই সৃষ্টি করেছেন মানুষ, তিনি তাকে শিক্ষা দিয়েছেন ভাষা। (সুরা আর রহমান, আয়াত:২-৪) ।

রসুল (স.) তার জীবনে আরবদের অনেক প্রচলনকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, যদি তা তাওহিদের পরিপন্থি এবং মানুষের জন্য অকল্যাণকর না হয়ে থাকে। মাতৃভাষার বিশুদ্ধ ব্যবহার, ভাষা শিক্ষা ও মাতৃভাষায় ইসলাম চর্চা করাকে বেশ গুরুত্ব প্রদান করেছে ইসলাম। আমাদের প্রিয় রসুল হজরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন ‘আফছাহুল আরব’ তথা আরবের শ্রেষ্ঠ বিশুদ্ধভাষী। তাই বিশুদ্ধ মাতৃভাষায় কথা বলা নবি (স.)-এর সুন্নত। রসুলুল্লাহ (স.) সারা জীবনে নিজ মাতৃভাষায় একটি অশুদ্ধ বাক্যও উচ্চারণ করেননি; বরং অন্যদের মাতৃভাষা বিশুদ্ধভাবে শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং মাতৃভাষা চর্চার মাধ্যমে জ্ঞানের পথ উন্মুক্ত করেছেন। আবার কখনো কখনো তিনি যুদ্ধবন্দিদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সন্তান-সন্ততির জন্য নিছক ভাষার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে, ভাষা শিক্ষা প্রদানের বিনিময়ে তাদের মুক্তও করে দিয়েছেন (তাবাকাতে ইবন সা’দ)।

মহান আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে অসংখ্য নবি-রসুলকে আসমানি কিতাবসহ স্বজাতির ভাষায় পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। যেমন হজরত দাউদ (আ.)কে তার নিজ ভাষা গ্রিকে জবুর কিতাব নাজিল করেছেন। হজরত মুসা (আ.)কে তাওরাত হিব্রু ভাষায়, হজরত ঈসা (আ.)কে সুরিয়ানি ভাষায়। শেষ নবি হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর ওপর পবিত্র কুরআনে কারিম নাজিল করেছেন আরবের ভাষা আরবিতে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারিমে ইরশাদ করেছেন, আমি প্রত্যেক নবিকে তাদের স্বজাতির ভাষায় পাঠিয়েছি তাদের সম্প্রদায়ের কাছে, যাতে তারা জাতিকে সুস্পষ্ট ভাষায় বোঝাতে সক্ষম হয়। সুরা মারইয়াম: ৯৭

অতএব, কুরআন, হাদিস ও ইসলামি ফিকহ, তাফসির, বিধিবিধান ও ইসলামি সাহিত্যকে বাংলা ভাষায় এ দেশের মুসলমানদের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান ধর্মপ্রাণ; কিন্তু শুধু বাংলা ভাষায় ইসলাম ধর্মের সঠিক চেতনা তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভাবে তাদের অনেকেই ইসলামের সঠিক জ্ঞান রাখেন না। একসময় ফার্সি ভাষাকে অমুসলিমদের ভাষা মনে করা হতো। রুমি, জামি, শেখ শাদিরা সেই ভাষায় অসংখ্য কবিতা, সাহিত্য রচনা করে ফার্সি ভাষাকে জয় করেন। এতে ইসলামের বিশাল উপকার হয়। আল্লামা ইকবাল উর্দু ভাষায় যে সাহিত্য রচনা করেছেন, তা ইসলামি সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা ভাষায়ও আমাদের প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, ফররুখ আহমদ, গোলাম মোস্তফাসহ অনেকেই তাদের কবিতা ও সাহিত্যে ইসলামকে তুলে ধরেছেন। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য।

লেখক : শিক্ষার্থী, জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া, আরজাবাদ, ঢাকা

ইত্তেফাক/এসকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন