ফাইনালের আগেই এবারের বিপিএলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। গতকাল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ফাইনালে আরও একটি হাফ সেঞ্চুরি করে অনন্য এক মাইলফলক ছুঁয়ে ফেললেন সিলেট স্টাইকার্সের ওপেনার। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিপিএলের এক আসরে ৫০০ রানের মাইলফলক পেরোলেন তিনি। ফাইনালে ৬৪ রানের ইনিংস খেলে তিনি টুর্নামেন্ট শেষ করলেন ৫১৬ রান।
গতকাল শান্ত ৬৪ রানের ইনিংসটা খেলেছেন ৪৫ বলে। হাঁকিয়েছেন ৯টি চার ও ১টি ছক্কা। পুরো আসরে ১৫ ম্যাচের ১৫ ইনিংসে ৩৯.৬৯ গড় ও ১১৬.৮৪ স্ট্রাইক রেটে ৫১৬ রান তার। বিপিএলের ইতিহাসে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে এক আসরে ৫০০ স্পর্শ করতে পেরেছেন আর কেবল একজন। ২০১৯ আসরে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ১৩ ইনিংসে ৫৫৮ রান করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার রাইলি রুশো।
এবারের বিপিএলে শান্ত চারটি ফিফটি করেছেন। সর্বোচ্চ ইনিংস ৮৯ রানের। গোটা টুর্নামেন্টে ৫৭টি বাউন্ডারি মেরেছেন, যা বিপিএলের এক আসরে যে কোনো ব্যাটারের সবচেয়ে বেশি বাউন্ডারির রেকর্ড। পাশাপাশি ছক্কা মেরেছেন ১২টি। শান্তর আগে বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ রান করা বাংলাদেশি ক্রিকেটারের রেকর্ডটি ছিল মুশফিকুর রহিমের। ২০১৯-২০ আসরে ৭০.১৪ গড় ও ১৪৭ স্ট্রাইক রেটে মুশফিক করেছিলেন ৪৯১ রান। মজার ব্যাপার হলো, গতকাল সেই মুশফিকের সঙ্গে জুটি বেঁধেই মুশফিকের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়লেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
কাল মিরপুরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৬ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে সিলেট। এর পরই জুটি বাঁধেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। দুজনে মিলে তৃতীয় উইকেটে গড়েন ৭৯ রানের জুটি। তাদের এই জুটির ওপর ভর করেই সিলেট পায় ১৭৫ রানের পুঁজি। কাল ব্যাট হাতে শান্তকেও ছাপিয়ে যান মুশফিক। ৩টি ছক্কা ও ৫টি চারে ৪৮ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। কালকের এই ইনিংস মিলিয়ে এবারের বিপিএলে মুশফিকের মোট ৩৫৭ রান। ৩৯.৬৬ গড় ও ১৩২.৭১ স্ট্রাইকরেটে এই রান করেছেন তিনি। সব মিলে এবারের বিপিএলে মুশফিক আছেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকার ৭ নম্বরে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪২৫ রান করেছেন রংপুর রাইডার্সের রনি তালুকদার। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪০৩ রান করেছেন সিলেটের তৌহিদ হৃদয়। এছাড়া বরিশালের সাকিব আল হাসান ৩৭৫, ঢাকার নাসির হোসেন ৩৬৬ ও কুমিল্লার লিটন দাস ৩৬২ রান করেছেন।
ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য দল ঘোষণা
ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ২ ওয়ানডের জন্য ১৪ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। ওয়ানডে স্কোয়াডে একমাত্র নতুন মুখ টপ অর্ডার ব্যাটার তৌহিদ হৃদয়। শেষ হওয়া বিপিএলে দুর্দান্ত পারফর্ম করে নজর কেড়েছেন হৃদয়। বাদ পড়েছেন উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান, পেসার শরিফুল ইসলাম, টপ অর্ডার এনামুল হক বিজয়, বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ ও মিডল অর্ডার ইয়াসির আলী রাব্বি। ইনজুরিতে থাকায় ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে ছিলেন না তামিম ইকবাল। অধিনায়ক হয়েই ফিরেছেন তামিম। ফিরেছেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
ওয়ানডে দল: তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন কুমার দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তৌহিদ হৃদয় ।
