সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ৯ আশ্বিন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

সেন্টমার্টিন থেকে বিপজ্জনকভাবে ছেঁড়া দ্বীপে যাতায়াত, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০১:০২

সেন্টমার্টিনে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক আসেন। তাদের অনেকেই সেখান থেকে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে কাঠের ছোট নৌকা, স্পিডবোট ও প্লাইবোটে করে ছেঁড়াদ্বীপে আসা-যাওয়া করছেন। এমন পরিস্থিতিতে যে কোনো সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সরেজমিন দেখা যায়, সেন্টমার্টিন থেকে নৌপথে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত পর্যটক স্পিডবোট, প্লাইবোট ও নৌকায় করে ছেঁড়া দ্বীপে যাচ্ছেন। এসব নৌযানে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হচ্ছে। চালকরা কোনো নিয়ম-নীতি না মেনে ত্রুটিপূর্ণ এসব বোটে যাত্রী তোলেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অল্প বয়সের ছেলেরা এসব বোটের চালকের দায়িত্বে থাকে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার পরও তাদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে বেশি টাকা।

সেন্টমার্টিনে ভ্রমণে আসা রেজাউল করিম নামে এক পর্যটক জানান, প্লাইবোটে নিয়ে সেন্টমার্টিন নৌপথ দিয়ে ছেঁড়া দ্বীপে যাওয়ার সময় মনে ভয় হয়। ছেঁড়াদ্বীপ যাওয়ার জন্য যেসব নৌকা, স্পিডবোট ও প্লাইবোট রয়েছে সেগুলোর চালকরা কম বয়সি। নৌযানগুলো ত্রুটিপূর্ণ। বোটে ওঠানামা করতেও ঝুঁকি নিতে হয়। তাছাড়া ভাড়া হিসেবে অনেক বেশি টাকা আদায় করা হয়। সেন্টমার্টিন যাত্রী পরিবহন সার্ভিস বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, ত্রুটিপূর্ণ যেসব স্পিডবোট ও প্লাইবোট এই নৌপথে চলাচল করে সেগুলোর বিষয়ে মালিকদের সঙ্গে আলাপ করা হবে।

সেন্টমার্টিন ট্যুরিস্ট পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ মো. মনিরুল ইসলাম জানান, সেন্টমার্টিনে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। তবে দ্বীপের অধিকাংশ নৌযানের বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। চালকদের লাইসেন্সও নাই। এ বিষয়ে বহুবার তাদের বলা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান জানান, সেন্টমার্টিন নৌপথে ত্রুটিপূর্ণ নৌযানসহ লাইসেন্স বিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সেন্টমার্টিনে দায়িত্বে থাকা কোস্ট গার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেন্টমার্টিনের বোট মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট বোট মালিকদের এই বিষয়ে সতর্কও করা হয়েছে।

 

ইত্তেফাক/ইআ