ত্রিপুরায় পাথরবাজার হারানোর আশঙ্কা

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০০:২১

উওর-পূর্ব ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রচুর পাথর পাওয়া যায়। তবে ত্রিপুরার সঙ্গে মেঘালয়ের যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় সেই পাথর সংগ্রহ করতে পারতেন না সেখানকার ব্যবসায়ীরা। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করতে হতো পাথর। মূলত সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে মেঘালয় থেকে আমদানি করা পাথরই আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ত্রিপুরায় রপ্তানি করতেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।

আখাউড়া স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী মো. রাজীব উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, বাংলাদেশে পাথরের ব্যাপক চাহিদা আছে। এই চাহিদা পূরণে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা গেলে ব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরো বেগবান হবে। এজন্য সরকারকে আমদানি শুল্ক কমাতে হবে।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, যেহেতু আমরা আমদানি করা পাথরই রপ্তানি করতাম, সেহেতু পাথর আমদানিতে শুল্ক কমালে আমদানি বাণিজ্য চাঙ্গা হতে পারে। আখাউড়া স্থলবন্দরের সুপারিনটেনডেন্ট মো. সামাউল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীদের পাথর আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবির বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও প্রতিদিন আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ত্রিপুরায় রপ্তানি হতো এক থেকে দেড় শতাধিক ট্রাক ভাঙা পাথর। প্রতি টন পাথরের রপ্তানি মূল্য ছিল ২৫ মার্কিন ডলার। আর এসব পাথর মেঘালয় থেকে আমদানি হতো মাত্র ৮ থেকে ১০ ডলারে। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আদায় এবং সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় উৎস ছিল রপ্তানিকৃত পাথর।

তবে পাথর রপ্তানি বাণিজ্যে ধস নামতে থাকে ২০১৭ সালের পর থেকে। ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা শহরের সঙ্গে সরাসরি রেলযোগাযোগ চালু হওয়ার পর থেকেই আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি কমিয়ে দেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে তারা এখন পাথর সংগ্রহ করছেন নিজ দেশ থেকেই।

বর্তমানে সিলেট এবং বিভিন্ন স্থানের নদী থেকে পাওয়া ক্ষুদ্রাকৃতির পাথর আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি হচ্ছে ত্রিপুরায়। তবে আগে যেখানে প্রতিদিন রপ্তানি হতো এক থেকে দেড় শতাধিক ট্রাক পাথর, এখন সপ্তাহে পাথর যাচ্ছে কেবল ৮ থেকে ১০ ট্রাক। প্রতি টন ক্ষুদ্রাকৃতির পাথরের রপ্তানি মূল্য ৩০ ডলার।

আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ত্রিপুরায় ভাঙা পাথর রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫৬ হাজার ৮৪৪ মেট্রিক টন। পরের অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৬০০ টনে। ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানি হয় ৬ হাজার ৯২৬ মেট্রিক টন। এরপর ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৮ হাজার ৫৯৭ মেট্রিক টন। সর্বশেষ ২০২২-২৩ অর্থবছরে গত জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ত্রিপুরায় পাথর রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৪১২ মেট্রিক টন।

 

 

 

ইত্তেফাক/ইআ