ইংল্যান্ড সিরিজ ঘনিয়ে আসছে। আগামী মাসের শুরুতেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগাররা। এরপরই আবার আয়ারল্যান্ড আসছে বাংলাদেশ সফরে। এছাড়া চলতি বছরই ওয়ান্ডে বিশ্বকাপ। সব মিলিয়ে টাইগারদের একটু বেশি পরিশ্রম যাচ্ছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় দফায় তিন ফরম্যাটের হেড কোচের দায়িত্ব নিতে গতকাল রাতে ঢাকায় এসে পড়েছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহেও। আজ থেকেই হয়তো তিনি তার কাজে নেমে পরবে। দলকে নিজের সঙ্গে মানিয়ে নিবেন। এর আগেও হাথুরুসিংহ যখন বাংলাদেশ দলের দায়িত্বে ছিলেন তখন বাংলাদেশ অনেক সাফল্য অর্জন করে। তবে সেই দল আর এই দল আলাদা। তখনকার হাতে গোনা কয়েকজনই এখন অবদি টিকে রয়েছে দলে। বাকি সব তরুণ তাদের নিয়েই এবার এগুতে হবে হাথুরুকে।
গতকাল সোমবার হাথুরুর ঢাকায় ফেরার দিনে মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন সুজন। এসময় হাথুরুর প্রশংসা করেন তিনি। বলেন, ‘হাথুরু অনেক বড় চিন্তা করে। আমরা সবাই জানি, হাথুরু গুড প্ল্যানার। সত্যি বলতে, প্ল্যানিংয়ের মাস্টার সে। কারণ উনি অনেক বড়টা দেখতে পারেন, দূরেরটা দেখতে পারেন।’
হাথুরুসিংহের অধিনে কেমন করতে পারে টাইগাররা জানতে চাইলে সুজন বলেন, ‘কাল (আজ) থেকেই মনে হয় কাজ শুরু করবে হাথুরু। আমি তো খুব ইতিবাচক ওর ব্যাপারে। আমি অনেক কোচের সঙ্গেই কাজ করেছি, তার সঙ্গেও কাজ করার একটা অভিজ্ঞতা ছিল। এখন আমরা যেখানে আছি, আমার মনে হয় কিছুদিন ধরে আমরা একটা জায়গা একটু আটকে আছি। টেস্ট ম্যাচে ভালো করছি না, টি-টোয়েন্টিতে ভালো করছি না তবে ওয়ানডেতে আমাদের পারফরম্যান্সটা এখনো ভালো আছে। ওয়ানডেতে নিশ্চিতভাবে আমি চাই সামনে বিশ্বকাপ আছে আমরা আরও ভালো করি, আরও প্রতিদ্বন্দ্বিপূর্ণ হই। টেস্ট-টি-টোয়েন্টিতে উন্নতিগুলো তার হাত ধরে আসুক সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কালচার সম্পর্কে, খেলোয়াড়দের সম্পর্কে ওর ভালো ধারনা আছে, তার ভালো আইডিয়া আছে। আমার মনে হয় তাদের সঙ্গে কথাও হয়েছে এর মধ্যে আসার আগ পর্যন্ত। তাই যতটুকু আমি তাকে চিনি তার ভিত্তিতে আমি ইতিবাচক চিন্তাই করছি।’
টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে পিছিয়ে থাকলেও টাইগাররা ওয়ানডে ফরম্যাটে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। এ ফরম্যাট বড় দলগুলোকেও চোখ রাঙ্গানি দেয় বাংলাদেশ। এদিকে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ভারতে বসতে যাচ্ছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। বৈশ্বিক লড়াই সামনে রেখে হাথুরুর অধীনে জাতীয় দলের প্রস্তুতি এবং প্রত্যাশা কেমন হবে; এমন প্রশ্নের জবাবে সুজন বলেন, ‘ওয়ানডে বিশ্বকাপ মানেই আমাদের জন্য মূল সংস্করণ। আমি তো চাই, আমরা এখানে ভালো খেলি। যেটা করতে পারিনি এখন পর্যন্ত, সেরকম করতে চাই। ভালো কিছু করতে চাই। যেরকম বললাম, আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। প্র্যাকটিক্যালি চিন্তা করলে আমরা অবশ্যই কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে চাই। নক আউট স্টেজে গিয়ে সবসময় চান্স থাকবে... নির্দিষ্ট দিনে ভালো খেললে সামনে এগিয়ে যাওয়ার, সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল খেলার। আমার কথা হচ্ছে, হাথুরুর কোচিংয়ে আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং আমাদের কতটা উন্নতি হয়। আমরা এখন ওয়ানডেতে খুব অভিজ্ঞ একটা দল। এটাই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী সংস্করণ। অনেক দিন ধরে এটাতেই ভালো করছি। এই ভালোটা কীভাবে আরও ওপরে যাওয়া যায় সেটাই লক্ষ্য থাকবে।’
হাথুরুর অধীনে ২০১৫ ওয়ান্ডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। এবার তার থেকেও ভালো করবে এমনটাই প্রত্যাশা সুজনের। বলেন, ‘অবশ্যই আমরা চাইব সে নিজেকে ছাড়িয়ে যাক। তখনকার সাকিব-মাহমুদউল্লাহ... দুজন মিলে যে ম্যাচ জিতিয়েছিল, এখন তো তারা আরও অনেক পরিপক্ব, ঠিক না? এখন তরুণরাও অনেক পরিণত হয়েছে, ভালো দল হয়েছে। আমরা অবশ্যই চাই। আমি চাই না যে ওর ওপর চাপিয়ে দিতে। তবে আমি জানি যে, হাথুরু যেমন মানুষ, ও নিজেই চাইবে। ও আসার আগেই সেভাবে প্ল্যান করে আসছে, কীভাবে সে দলটাকে গোছাবে।’
এদিকে হাথুরু ফিরে আসার পর টিম ডিরেক্টর হিসেবে সুজনের ফিরবে বলে শোনা যাচ্ছিলো। তবে এমনটা হচ্ছেনা জানালেন সুজন নিজেই। বলেন, ‘না! আমার মনে হয় না। এটা যেহেতু হোম সিরিজ, আমি চাই না আসলে হোম সিরিজে যেহেতু আমরা সবাই থাকি, আমার মনে হয় হোম সিরিজে না। মনে হয় না থাকব। এই সিরিজটা যাক, তারপর দেখা যাবে। হোম সিরিজে এখানে সবাই আছি বোর্ডের, সবাই সাহায্য করতে পারবে। আমি মনে হয় না এই সিরিজে ফিরব।’
