নিয়োগ বিধি অমান্য করে এক চিঠিতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ১০০ জন সার্ভেয়ার ও ড্রাফটসম্যানকে পদোন্নতি দিয়ে প্রকৌশলী বানিয়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জনকে দেয়া হয়েছে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের। ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বলছে, এর ফলে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা বাড়বে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয় বলছে বিষয়টি সুরাহার নির্দেশ দেয়া হবে।
সম্প্রতি সওজের প্রধান প্রকৌশলী এক আদেশে ৫৭ জন সার্ভেয়ার ও ৩১ জন ড্রাফটসম্যান এবং ১২ জন ওয়ার্ক সুপারভাইজারসহ উপসহকারী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেন। কয়েক দিন পর তাদের মধ্য থেকে সারা দেশে সওজের চলমান প্রকল্পগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন করা হয়। এতে ৩০ জন সার্ভেয়ার, ১৬ জন ড্রাফটসম্যান ও চার জন ওয়ার্ক সুপারভাইজার দায়িত্ব পান। সওজের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় দায়িত্ব পালন করার পর নিম্নপদ থেকে শতকরা ১৫ ভাগ কর্মকর্তা পদোন্নতি পেতে পারেন। সে অনুযায়ী, মোট ৬৩৫টি উপসহকারী প্রকৌশলী পদের বিপরীতে পদোন্নতি পেতে পারেন ৯৫ জন কর্মকর্তা। ইতিমধ্যে ৪৪ জন দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন করে ৫১ জনের বেশি পদোন্নতির সুযোগ না থাকলেও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ৩৯ জনকে বাড়তি পদোন্নতি দেয়া হয়েছে, যা সরকারের নিয়োগ বিধিবহির্ভূত আদেশ।
ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বলছে, নন টেকনিক্যালদের দিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ। কাজের গুণমান ঠিক না থাকার পাশাপাশি কাজের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে বলে মনে করেন তারা। আইডিইবি সভাপতি এ কে এম এ হামিদ বলেন, টেকনিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকলে টেকনিক্যাল পদে পদোন্নতি দিলে জনগণ সে সার্ভিস পাবে না। এতে দেশ ও জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ব্যক্তিগত সুবিধা দিয়ে তো দেশের ক্ষতি করা ঠিক হবে না।
নিয়োগ বিধিবহির্ভূত পদোন্নতির কথা স্বীকার করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম এ আমিনউল্লাহ নূরী। তিনি জানান, নিয়মের ব্যত্যয় থাকলে তা সংশোধন করা হবে। এ বিষয়ে তাঁর কাছে অভিযোগ এসেছে বলেও তিনি জানান। তাঁর মতে, এটি হিসাবনিকাশের বিষয়। কত জনকে সরাসরি নিয়োগ দেয়া যাবে আর কত জনকে নিচ থেকে পদোন্নতি দেয়া যাবে তার হিসাব করতে হবে। বিষয়টি প্রধান প্রকৌশলীকে জানাতেও বলেছেন তিনি। এ বিষয়ে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি।
এ বিষয়ে দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান এম বদিউজ্জামান বলেন, এটি অবশ্যই বড় ধরনের অনিয়ম। যেখানে পদ নাই সেখানেই পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এসব বিষয়ের সঙ্গে আর্থিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি চলে আসে। আর যেখানে আর্থিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আসবে সেখানেই দুর্নীতি। তিনি বলেন, দুর্নীতি দূর করা শুধু দুদকের দায়িত্ব নয়, প্রত্যেক বিভাগের নিজস্ব কিছু বিধিবিধান আছে। সে অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নিতে পারে।
