গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে ৮ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। এ সময় টুঙ্গিপাড়া প্রেসক্লাবসহ ১১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৩১৫ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
মঙ্গলবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত থেমে থেমে টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শ্রীরামকান্দি ও গিমাডাঙ্গা গ্রামের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম এনামুল কবীর জানান, 'সোমবার গিমাডাঙ্গা গ্রামের কিছু যুবক শ্রীরামকান্দি ব্রিজের রেলিংয়ের ওপর বসে আড্ডা দিচ্ছিলো। শ্রীরামকান্দি গ্রামের সাইফুল ইসলাম তাদেরকে শ্রীরামকান্দি ব্রিজের ওপর থেকে চলে যেতে বলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। শ্রীরামকান্দি গ্রামের সাইফুল ইসলামকে অপমান করায় কিছু লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে গিমাডাঙ্গার যুবকদের চর-থাপ্পর মারে। পরে দুই গ্রামের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রামের অন্তত ৪ জন সামান্য আহত হয়। সেই জের ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শ্রীরামকান্দি ও গিমাডাঙ্গা গ্রামের লোকজন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় টুঙ্গিপাড়া প্রেসক্লাব সহ ১১টি দোকান হামলা ও ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করা হয়। আগুনে ৫টি দোকান সম্পূর্ণ ও প্রেসক্লাবের আংশিক পুড়ে যায়। পুলিশ ৩১৫ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।'
টুঙ্গিপাড়া থানার এসআই ইমারত হোসেনসহ ৮ পুলিশ সদস্য ও উভয় গ্রামের আহতরা টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় টুঙ্গিপাড়া থানায় পুলিশ বাদী হয়ে বুধবার একটি মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া সোমবারের ঘটনায় শ্রীরামকান্দি ও গিমাডাঙ্গা গ্রামের পক্ষ থেকে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের হলেও মঙ্গলবারের হামলা, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কোন মামলা হয়নি বলে জানান ওসি একেএম এনামুল কবীর।
মঙ্গলবারের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নাসিমা বেগম (৪০) বলেন, 'আমি ধার-দেনা করে ছেলেকে পাটগাতী বাসস্ট্যান্ডে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর করে দিয়েছিলাম। আমার ছেলের দোকান ভাঙচুর করে আমাদের সর্বশান্ত করে দিয়েছে হামলাকারীরা। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।'
আরও পড়ুন: পরীক্ষামূলক স্বাস্থ্য বীমা কার্যক্রম শুরু হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
ব্যবসায়ী বিএম ফোরকান আলী জানান, পাটগাতী বাসস্ট্যান্ডের ১১ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়। এতে অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ওই ব্যবসায়ীর ঠিকাদারি কাজে ব্যবহৃত মূল্যবান পাইপ ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এতে তার বড় অংকের ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।
টুঙ্গিপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি বিএম গোলাম কাদের বলেন, 'সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রেসক্লাবের আংশিক অংশ পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা অগ্নিসংযোগকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এ ঘটনায় অনেক ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও গণমাধ্যম কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।'
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
