জিয়া একুশে ফেব্রুয়ারির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বাতিল করেছিল

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০০:১৭

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশের সংবিধান থেকে মুক্তি সংগ্রাম আর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ভুলন্ঠিত করা হয়েছিল। সংবিধানের প্রস্তাবনায় জাতির পিতার নেতৃত্বে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের যে স্বীকৃতি ছিল, সেটি অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী জেনারেল জিয়া অসাংবিধানিক ভাবে বাতিল করেছিল। জেনারেল জিয়া অবৈধ সামরিক ফরমানের মাধ্যমে সংবিধানের প্রস্তাবনার প্রথম বাক্যে "জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে" শব্দগুলির পরিবর্তে "জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের মাধ্যমে" শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে ভাষা আন্দোলন সহ বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রতিটি অবদানের স্বীকৃতি বাতিল করেছিল। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাঙালির জন্য আরেকটি বড় অর্জন এনে দিয়েছিলেন। সেটি হচ্ছে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি। বাঙালি জাতীয়তাবাদ বলতে কি বুঝায়- সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে জাতির পিতা সেটি ব্যাখ্যা করেছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল, "ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করিয়া জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করিয়াছেন, সেই বাঙালী জাতির ঐক্য ও সংহতি হইবে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।" বাঙালি জাতীয়তাবাদের এই সাংবিধানিক স্বীকৃতি অবৈধ স্বৈরশাসক জিয়া সংবিধান থেকে বাতিল করেছিল। জাতির পিতা কে হত্যার পর এটি ছিল বাঙালি জাতির উপর সবচেয়ে বড় আঘাত। দেশে-বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের স্বাধীনতার আদর্শ বিরোধী শক্তির পক্ষে এবং তাদের এজেন্ট হিসেবেই জিয়া এই কাজ করেছিল। 

৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে লেখা সংবিধানকে যেভাবে ক্ষতবিক্ষত করে বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের আদর্শ গুলো সংবিধান থেকে ভুলুণ্ঠিত করা হয়েছিল, এগুলো আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে জাতিকে প্রায় ৩৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে একুশ বছর পর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলেও সংবিধান সংশোধনের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় আওয়ামীলীগ এই কাজটি করতে পারেনি। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ তিন চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম ও স্বাধীনতার আদর্শ গুলো সংবিধানে পুন:স্থাপন করে। 

আবার শেখ হাসিনার উদ্যোগেই আজ একুশে ফেব্রুয়ারি সারা পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। 
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যেমন বাংলাদেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এবং বাঙালি জাতিকে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন,  তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা ২১ ফেব্ৰুয়ারিকে পৃথিবীর সকল জাতি রাষ্ট্রের কাছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন l বাঙালি জাতির ইতিহাসে এটি একটি অনন্য অর্জন l বিশ্বে এই স্বীকৃতি কেবল বাংলা এবং বাঙালিই পেয়েছে l 

আজ বিএনপি ঢাক-ঢোল পিটিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন করলেও তারা কি ভুলে গেছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়া সংবিধান থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি সহ বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের সকল স্বীকৃতি বাতিল করেছিল? বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা জিয়া শুধু ভাষা সংগ্রাম নয়, মুক্তি সংগ্রামের সকল অর্জন সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ভাবে ধ্বংস করেছিল l বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়ার সকল নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছিল l আজকে বিএনপি যখন মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে কিংবা একুশে ফেব্রুয়ারির কথা বলে, এটি এক ধরণের ভণ্ডামি, স্ববিরোধী অবস্থান এবং রাজনৈতিক শঠতা l আজ বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম তথা গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে l

ইত্তেফাক/ইআ