ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের সদস্য ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, ‘ঢাকার বায়ুদূষণ যেভাবে বাড়ছে, এভাবে ক্রমাগত চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বায়ুদূষণজনিত বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে হবে।’ বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে ‘গ্লোবাল পলিসি ন্যারোটিভ অব ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট সিচুয়েশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চলে পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে নবাগত শিশুদের মাঝে নতুন নতুন রোগ দেখা দিচ্ছে এবং নারীদের বন্ধ্যাত্বতা বাড়ছে। সংকট মোকাবিলায় সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক কাজী সারোয়ার ইমতিয়াজ হাশমী।
সেমিনারের প্রথম অধিবেশনে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্ট বাংলাদেশ'র সহ-সভাপতি ও স্টেট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী নকীর সভাপতিত্বে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা।
দ্বিতীয় অধিবেশনে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক কাজী সারোয়ার ইমতিয়াজ হাশমী সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন স্টামফোর্ড বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার।
সেমিনারের আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন-ডিআইইউ'র উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. গনেশ চন্দ্র সাহা, দ্যা আর্থ সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন মিয়া, ইউএসএআইডি বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট সাইয়েদুল ইসলাম।
সেমিনার সঞ্চালনায় ছিলেন ডিআইইউ'র পলিটিক্যাল সাইন্স বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক মো. ফজলুল হক (পলাশ) এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ডিআইইউ'র পলিটিক্যাল সাইন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শরিফুল আলম।
প্রথম অধিবেশনের মূল বক্তব্যে সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের (সিপিআরডি) সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মোঃ শামসুদ্দোহা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার একমাত্র উপায় হচ্ছে পৃথিবীর উষ্ণতা শিল্প বিপ্লব শুরুর সময় হতে বর্তমানে যেন তা ১.৫° সে. এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে তা নিশ্চিত রাখা।
দ্বিতীয় অধিবেশনের মূল বক্তব্যে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার তার মূল প্রবন্ধে বলেন, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রণীত বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২২-এ নির্ধারিত পরিবেষ্টক বায়ুর মানমাত্রা বিশ্বের উন্নত দেশ এমনকি অনেক উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় কয়েকগুন বেশী। পূর্বে বায়ুর দূষক বস্তুকনা২.৫ এর বার্ষিক মান প্রতিঘনমিটার বায়ুতে ১৫ মাইক্রোগ্রাম থাকলেও বর্তমানে এটি ৩৫ মাইক্রোগ্রাম নির্ধারণ হয়েছে, যা দেশের বায়ুদূষণের বর্তমান খারাপ অবস্থা থেকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাবে।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কপ সম্মেলনগুলো নিঃসন্দেহে একটি ভাল উদ্যোগ এর ফলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অনেক ইতিবাচক জিনিস উঠে এসেছে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক কাজী সারোয়ার ইমতিয়াজ হাশমী বলেন, ‘পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে আমাদেরকেই কাজ করতে হবে। স্টেক ইমিশনের মত সংবেদনশীল বিষয়ে মানমাত্রা নির্ধারণের পূর্বে আমাদের দেশীয় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে।’
ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্ট বাংলাদেশ এর সহ-সভাপতি স্টেট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী নকী বলেন, ‘যদি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য কোন দেশ নিমজ্জিত হয় তবে ক্ষতি শুধু ঐ দেশের নয়, আন্তর্জাতিকভাবে সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হবে কারণ গ্লোবালাইজেশনের এই যুগে এক দেশ অপর দেশের ওপর নির্ভরশীল।’
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. গনেশ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘আমরা উন্নয়নশীল দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতির মূল ভুক্তভোগী কিন্তু আমরা এর জন্য মূলত দায়ী নই। উন্নয়নশীল দেশগুলোর সংকট মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।’
দ্যা আর্থ সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন মিয়া বলেন, ‘আমাদের পরিবেশ ও জ্বালানি নীতির চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করতে এবং সুযোগগুলিকে কাজে লাগাতে, বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার উন্নতি, জনসচেতনতা ও শিক্ষা বৃদ্ধি এবং টেকসই পদ্ধতি গ্রহণ ও প্রচারের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে।’
ইউএসআইডি বাংলাদেশ-এর প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিষ্ট মো. সাইয়েদুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বিষয়ে বাংলাদেশের নগরায়ন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের ভূমিকা সচেতনভাবে মূল্যায়ন করতে হবে এবং টেকসই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি'র বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সংস্থার গবেষক, সামাজিক ও পরিবেশবাদি বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা।
সেমিনারটি আয়োজন করে-বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস), স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ; বাংলাদেশ সেন্টার ফর গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি; সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরী রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (সিপিআরডি) এবং দ্যা আর্থ সোসাইটি।
এ সময় স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
