দিলরুবা সাথী। উপস্থানায় দেড় যুগ ধরে কাজ করছেন। সম্প্রতি চ্যানেলের চাকরি ছেড়ে ফ্রিল্যান্স হিসেবেই কাজ করছেন। কথা বললেন নিজের কাজ ও বর্তমান শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞতা নিয়ে।
চ্যানেলের অনুষ্ঠানের বাইরে এখন কি নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
একটানা অনেকগুলো ইভেন্ট করলাম। চ্যানেল আই ছেড়ে যাবার পর আসলে আমি নিজেও কাজের অবসর পাইনি। বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, শিল্পকলার বার্ষিক অনুষ্ঠানসহ কর্পোরেট ইভেন্ট তো রয়েছেই।
চ্যানেল আই ছাড়লেন দীর্ঘদিন কাজের পর। কোনো নতুন চ্যানেলে যাচ্ছেন কী?
আপাতত কোথাও জয়েন করবো বলে ঠিক করিনি। ব্যাক টু ব্যাক অনেকগুলো কাজ করেছি। আর চ্যানেল আইয়ের এমন কিছু পাইওনিয়ার অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা আমি করেছি। সেখান থেকে নতুন চ্যানেলে যাওয়াটা আরো চ্যালেঞ্জিং। তবে ব্যাটে বলে মিলে গেলে হয়ত জয়েন করবো।
তারকাকথন, গানে গানে সকাল শুরু এসকল অনুষ্ঠানের শুরুর দিককার উপস্থাপক আপনি। সেক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাটা বলুন
সিটিসেল তারকাকথন এ আমি সঙ্গীতা আপা, মৌসুমী আপুর পরে জয়েন করি। আসলে চ্যানেল আই এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে আপনি আপনার মেধার পুরোটা প্রকাশ করতে পারবেন। সেই অবারিত সুযোগ আপনাকে দেয় তারা। আর গানে গানে সকাল শুরু আমার উপস্থাপনায় শুরু হয়। এখনও মনে আছে প্রথম রেকর্ডিংয়ের আগে আমীরুল ইসলাম ভাই ডেকে বললেন,‘এই অনুষ্ঠানটি একেবারেই নতুন। তাই একটা আঙ্গিক তৈরি করতে হবে। প্রথমে খুব নার্ভাস ছিলাম। কারণ আমাদের দেশে এ ধরণের অনুষ্ঠান এটিই প্রথম। তাই পুরো অনুষ্ঠানের প্যাটার্ণটা আমাদেরই তৈরি করতে হয়। এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আর আজ তো এই অনুষ্ঠানটি দেশের অন্যতম সেরা অনুষ্ঠানের একটি।
উপস্থাপনা পেশা হিসেবে কতটা নির্ভরযোগ্য বলে মনে করেন। এখন তো অনেকেই এই পেশায় আসছেন। যদিও নারী উপস্থাপকই বেশি। আপনার অবজারভেশন কি?
দেখুন, উপস্থাপনা মেধাচর্চার পেশা। শুধু গ্ল্যামারে উপস্থাপনা হয় না। শোবিজের অন্য পেশার থেকে এটি অবশ্যই ভিন্ন। তবে মেধা-নিষ্ঠা থাকলে অবশ্যই ভাল করা সম্ভব।
নাচ দিয়ে আপনার ক্যারিয়ার শুরু। কিন্তু সেটি আর ধারাবাহিকতা রক্ষা হলো না কেন। অনেকেই উপস্থাপনা দিয়ে শুরু করে নাচ বা অভিনয়ে চলে যায়।
নাচ টা আমার প্রথম প্রেম। আমি নৃত্যে জাতীয় পর্যায়ে ১৯৯৯ সালে ঢাকা জেলা চাম্পিয়ানশীপে প্রথম হই। নাচটা আসলে ছেড়ে দিইনি। বিরতি নিয়েছি বলতে পারেন। হয়ত সময়ের প্রয়োজনে। জীবন তো সময়ের প্রয়োজনেই চলে।
ক্যারিয়ারে আপনার জীবনে সাপোর্ট দিয়েছেন এমন কার কার প্রতি কৃতজ্ঞ?
অনেকের। শুরুর দিকে বলতে আমার দ্বিধা নাই আমি লিখন-নাদিয়া জুটির পেছনে গ্রুপ ড্যান্সার হিসেবেও কাজ করেছি অনেকদিন। আর নাচে নূরে আলম ভাইয়ের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা। উপস্থাপনায় ক্যারিয়ারের শুরুতে শামীম শাহেদ ভাই এরপর চ্যনেল আইতে আমি সাগর স্যার, সিরাজ সার এই দুজন আইকনকে পেলাম। যা আমার ভাগ্য বলতে পারেন। সাগর ভাইকে দীর্ঘদিন আমি দূর থেকে দেখতাম। আর বিষ্মিত হতাম। অনেককিছু শিখেছি। এরপর বলতে হয় আমীরুল ইসলাম ভাই। যার ধমক বকুনি সাহস আমাকে এতদূর এনেছে, বিটিভির মাসুদ চৌধুরী। আরো অনেক অনেক নাম। আমি আসলে আমার একটি কাজ দিয়েই অন্য আরো কয়েকটা ভাল কাজ পেয়েছি।
জীবনে উপস্থাপনায় শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা কোনটা।
অবশ্যই বলতে হবে। গানে গানে সকাল শুরুতে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাদির গানে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন প্রথম কোনো লাইভ অনুষ্ঠানে কল করলেন। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ছিলাম আমি।
ক্যারিয়ারের দূরবর্তী স্বপ্ন কী? এই কনটেন্টের ডিজিটাল যুগে আজ সকলেই উপস্থাপক। সেখানে উপস্থাপক পরিচয়ের স্বকীয়তা কিভাবে নির্ধারণ হবে আগামীতে বলে মনে করেন—
দেখুন প্রথম প্রশ্নের জবাবে বলি, কেউ কি ক্যারিয়ারের দূরবর্তী স্বপ্ন দেখতে পায়? আমার তো মনে হয় সততার সাথে কাজটা করে গেলেই হয়। নিয়তি তাকে পুরস্কারস্বরুপ ভাল কাজ উপহার দিতে থাকে। আমি তো গতকালকেও জানতাম না যে ইত্তেফাক আমার ইন্টারভিউ করবে। তার মানে আমার বিগত ১৫ বছরের শ্রমের একটা মূল্য আছে। আর উপস্থাপনার সঠিক বেঠিক আঙ্গিক দর্শক নির্ধারণ করেন। শুধু বলবো, আমি যেমন সাহিত্যের ছাত্রী। আমার কাছে মনে হয়, অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু সঠিক ভাবে তুলে ধরা প্রথম ও প্রধান কাজ একজন উপস্থাপকের।
