নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের নির্মাণ মানেই ভিন্ন কিছু। এদেশে নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা হাতে গোনা। তার ভেতরে বিশ্বখ্যাত নিউইয়র্ক ফিল্ম একাডেমি থেকে ডিগ্রী নিয়ে আন্তর্জাতিক কাস্ট-ক্রু নিয়ে রুবাইয়াত্ তার প্রতিটি কাজেই রেখেছেন দেশের গল্প, সেখানে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ ও সমকালীন বাস্তবতা। এবারে তার নতুন চলচ্চিত্র ‘শিমু’ ৬৪ জেলার শিল্পকলা একাডেমিতে প্রদর্শিত হবে।
আজ শনিবার ৬৪ জেলার শিল্পকলা একাডেমিতে প্রদর্শিত হবে ছবিটি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ৩য় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উত্সবে সারাদেশের শিল্পকলা একাডেমিতে দর্শকরা ছবিটি দেখতে পাবেন সন্ধ্যা ৭টায়।
নারীর ক্ষমতায়নে ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে পোশাকশিল্পের যে ভূমিকা আছে তার আলোকে দৃঢ়চেতা নারী পোশাক শ্রমিকদের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প বলা হয়েছে ‘শিমু’ চলচ্চিত্রে।
‘শিমু’ প্রতিকুলতাকে জয় করে সামনে এগিয়ে চলা প্রতিটি সংগ্রামী মানুষের গল্প। সমতার প্রশ্নে ‘শিমু’ একজন সম্মুখযোদ্ধা। শ্রমিকনেত্রী ডালিয়া আক্তারের জীবনের সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র শিমু নারী দিবস উপলক্ষে দেশের সিনেমা হলে মুক্তি পায় গত বছর ১১ মার্চ।
রুবাইয়াত হোসেনের পাশাপাশি ছবিটির মূল কূশলীদের অধিকাংশই ছিলেন নারী। চিত্রগ্রহণে সাবিন ল্যাঞ্চেলিন, শব্দগ্রহণে এলিশা আলবার্ট, এবং শিল্প নির্দেশনায় জোনাকি ভট্টাচার্য্যের নাম উল্লেখযোগ্য।
চলচ্চিত্রটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু, নভেরা রহমান, দীপান্বিতা মার্টিন, পারভীন পারু, মায়াবি মায়া, মোস্তফা মনোয়ার, শতাব্দী ওয়াদুদ, জয়রাজ, মোমেনা চৌধুরী, ওয়াহিদা মল্লিক জলি ওসামিনা লুত্ফা প্রমুখ। দুটি অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিতা চৌধুরী ও ভারতের শাহানা গোস্বামী।
চলচ্চিত্র ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ বা ‘শিমু’-এর কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের লোকার্নো চলচ্চিত্র উত্সবে ওপেনডোরস ল্যাব এ অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে। চিত্রনাট্যের জন্য রুবাইয়াত হোসেন জিতে নেন আর্টে ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার।
দেশব্যাপী ছবিটি প্রদর্শন প্রসঙ্গে নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন বলেন, ‘যে কোনো নির্মাতার প্রথম ও প্রধান আকুতি থাকে ছবির মেসেজটি সকলের কাছে পৌঁছানো। সেক্ষেত্রে এটি অবশ্যই একটা দারুণ উদ্যোগ। কারণ শিমু’ চলচ্চিত্রটি এদেশের গল্প। এদেশের জনমানুষের গল্প। আমার কাছে যে কোনো সম্মাননার চেয়ে সাধারণ দর্শকের ভাল লাগাকে বেশী মূল্যবান মনে হয় সবসময়।’
টরন্টো চলচ্চিত্র উত্সবে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের পর ছবিটি প্রদর্শিত হয় ৬৩তম বিএফআই লন্ডন চলচ্চিত্র উত্সবে। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে সমাদৃত ও পুরস্কৃত হয়েছে ছবিটি। ফ্রান্সের সেইন্ট জঁদ্য-লুজ চলচ্চিত্র উত্সবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নেন রিকিতা নন্দিনী শিমু। ইতালির টোরিনো বাতুরিন চলচ্চিত্র উত্সবে পেয়েছে ইন্টারফেদি পুরস্কার এবং ফ্রান্সের এমিয়েন্স আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে জিতে নিয়েছে সেরা দর্শক পুরস্কার ও জুরি পুরস্কারসহ ৩টি পুরস্কার। ২০১৯ এর ডিসেম্বরে ফ্রান্স, ডেনমার্ক, কানাডা ও পর্তুগালের বিভিন্ন সিনেমা হলে বাণিজ্যিকভাবে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নামে মুক্তি পায় ছবিটি। এরপর ২০২০ আমেরিকার বিভিন্ন হলে প্রদর্শনের পর ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে দেখানো হয় ম্যাক্সিকো, চীন, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, জাপান ও জার্মানীর সিনেমা হলে।
বাংলাদেশের খনা টকিজ ও ফ্রান্সের লা ফিল্মস দ্য এপ্রেস-মিডির ব্যানারে নির্মিত শিমু ছবিটির প্রযোজক ফ্রঁসোয়া দক্তেমা ও আশিক মোস্তফা এবং সহ-প্রযোজক পিটার হিলডাল, পেদ্রো বোর্হেস, আদনান ইমতিয়াজ আহমেদ ও রুবাইয়াত হোসেন। আর ছবিটির পরিবেশনা ও আন্তর্জাতিক বিক্রয় প্রতিনিধি ফ্রান্সের পিরামিড ফিল্মস। প্রথম ছবি মেহেরজান (২০১১) এবং দ্বিতীয় ছবি আন্ডার কনস্ট্রাকশন (২০১৫)-এর পর ‘শিমু’ রুবাইয়াত হোসেনের তৃতীয় ছবি।
