নওগাঁর পত্নীতলায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকসার এক নারীসহ ৩ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুসহ আরও ৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দিকে উপজেলার নজিপুর-ধামইরহাট সড়কের আমবাটি মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর বাসটি জব্দ করলেও চালক ও সহযোগীকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
নিহতরা হলেন, যাত্রী শানজিদা খাতুন, শরিফা খাতুন এবং অটোরিকশা চালক মিজানুর রহমান। ঘটনাস্থালে শানজিদা নিহত হয়। অপর দু’জন শনিবার পৃথক সময়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনজনই পত্নীতলা উপজেলার।
নিহত শানজিদা খাতুন পাহাড়কাটা গ্রামের রাসেল রানার স্ত্রী এবং একই গ্রামের আমজাদ হোসেনের শরিফা খাতুন। মিজানুর রহমান একই উপজেলার আমিনাবাদ গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে।
আহতরা হলেন, পাহাড়কাটা গ্রামের রাসেল রানার শিশু ছেলে সোহান হোসেন, একই গ্রামের শামীম রেজা এবং জেলার মহাদেবপুর উপজেলার নাটুয়াপাড়া গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে আরিফুজ্জামান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়কাটা গ্রামের কয়েকজন নারী ও পুরুষসহ আরও যাত্রীরা অটোরিকশা যোগে শুক্রবার সন্ধ্যায় নজিরপুর সদর থেকে নজিপুর-ধামইরহাট সড়ক দিয়ে নিজ বাড়ি পাহাড়কাটায় যাচ্ছিলেন। অটোরিকশাটি আমবাটি মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক ধামইরহাট থেকে ছেড়ে আসা নজিপুরগামী একটি বাস অটোরিকশায় চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থালে শানজিদা নিহত হয়। ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা শিশুসহ ৬ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে শরিফা খাতুন, আরিফুজ্জামান এবং অটোরিকশা চালক মিজানুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কজনক হওয়ায় তাদের রাতেই রামেকে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে শনিবার মধ্য রাত ও ভোর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফা খাতুন এবং মিজানুর রহমান মারা যান।
পত্নীতলা থানার ওসি পলাশ চন্দ্র দেব বলেন, সংবাদ পেয়ে বাসটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে বাসের চালক ও সহযোগীরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। আহত আরও ৩ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
