অপহৃত ফেরিওয়ালার অভিযোগের টর্চার সেলের সন্ধান

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:০০

রাজশাহীতে অপহৃত একজন ফেরিওয়ালার অভিযোগের ভিত্তিতে সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্র ও তাদের টর্চার সেলের সন্ধান পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ওই টর্চার সেলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল দেশি অস্ত্রসহ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার (২৫ ফেব্রয়ারি) রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- নগরীর বোয়ালিয়া থানার হেতেমখাঁ এলাকার আরেফিন আহাদ খান সানি (৪২), মোস্তাক আহম্মেদ ফাহিম (২২) ও পারভেজ (২৭) এবং চন্দ্রিমা থানার মেহেরচন্ডী কড়াইতলা এলাকার সাব্বির সরকার (২৫)। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নগরীর রাজারহাতা এলাকার লোকনাথ মার্কেটের সামনে থেকে ফেরিওয়ালা দেলোয়ার হোসেন মন্ডলকে অপহরণ করা হয়। মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে তাকে নগরীর হেতেমখাঁ বড় মসজিদের উত্তর পাশের একটি দোতলা বাসার ছাদের একটি টর্চার সেলে আটকে রাখা হয়। বাসাটি গ্রেপ্তার আরেফিনের নিজ বাসভবন ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, আসামিরা ফেরিওয়ালা দেলোয়ারকে অপহরণ করে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং মারধর করে। এরপর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরদিন দুপুরে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ফেরিওয়ালা প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানাতে চাননি। পরে মৌখিক অভিযোগ ও তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই টর্চার সেলে অভিযান চালায় পুলিশ। রাজশাহী মেট্রো পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাকের নেতৃত্বে উপ-পুলিশ কমিশনার আল মামুন, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহ আল মাসুদ, পরিদর্শক আশিক ইকবাল, উপ-পরিদর্শক সুমন কুমার সাহাসহ গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল, সিআরটি ও বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার ভোরে সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশ আরেফিনকে তার শোবার ঘর থেকে আটক করে।

তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বাড়ির ছাদের টর্চার সেল থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে আরেফিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনজনকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি মো. সোহরাওয়ার্দী হোসেন জানান, অপহরণ ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় থানায় পৃথক মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলা দুটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে। 

ইত্তেফাক/আরএজে