ওএমএসের চাল-আটা কিনতেও লাগবে কার্ড

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৮:০২

সরকারের ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্র থেকে খাদ্যপণ্য (চাল ও আটা) কিনতে এখন থেকে কার্ড লাগবে। ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই ব্যক্তি যাতে সরকারের একাধিক সুবিধা না পায় এবং ন্যায্যমূল্যের পণ্য একাধিকবার নিতে না পারে সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত। গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে ওএমএস পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটিসহ কিছু অনিয়মের খবর পৌঁছাতেই তিনি নিজেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা জানান। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন।  তবে ঠিক কত জনকে কার্ড দেওয়া হবে বা কার্ডধারী কারা হবেন সেটি খাদ্য, বাণিজ্য, কৃষি মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবে। দ্রুতই বৈঠক করে তারা এই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। এজন্য একটি নীতিমালাও করা হবে। কাদের মাধ্যমে কার্ডধারী চিহ্নিত করা হবে সেটিও নীতিমালায় থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এখন ১ কোটি পরিবারকে টিসিবির কার্ডের মাধ্যমে যেভাবে সহযোগিতা করা হয়, ওএমএসটাও সেভাবে কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হবে। এখন টিসিবির পণ্য পেতে দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। নতুন করে খোলাবাজারে পণ্য পেতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন হবে না। কার্ড নিয়ে গেলেই একজন পণ্য পেয়ে যাবেন। টিসিবি কার্ডের মাধ্যমেও ওএমএসের চাল-আটা বিক্রি অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, সরকার ঢাকাসহ সারা দেশে ওএমএস ডিলারের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের কাছে চাল ও আটা বিক্রি করছে। একজন সর্বোচ্চ ৫ কেজি চাল ও ৩ কেজি আটা কিনতে পারেন। প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা ও আটা প্রতি কেজি ২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য সরকারের খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ওএমএসের বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে সুলভ মূল্যে চাল ও আটা বিক্রি করা হচ্ছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল, বলছেন ভোক্তারা। এছাড়া ওএমএসের চাল ও আটা পেতে ক্রেতাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও অনেককে চাল ও আটা না পেয়ে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে।

ওএমএস পণ্যের ক্রেতারা বলছেন, তারা প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা দরে সর্বোচ্চ ৫ কেজি কিনতে পারেন। তাতে তাদের ব্যয় হয় ১৫০ টাকা। অথচ বাজারে একই পরিমাণ চালের দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। তার চেয়েও বেশি সাশ্রয় হচ্ছে আটায়। কারণ প্রতি কেজি ওএমএসের আটার দাম ২৪ টাকা, যা বাজারে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। ফলে ওএমএসের ৫ কেজি আটায় তাদের সাশ্রয় হয় ২০০ টাকারও বেশি।

আরো ৪৪ দেশে দ্বৈত নাগরিকত্বের সুবিধা : আরো ৪৪টি দেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব নেওয়ার সুবিধা পাবেন বাংলাদেশিরা। এ বিষয়ে এসআরও জারির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এর আগে ৫৭টি দেশে বাংলাদেশিদের দ্বৈত নাগরিকত্বের সুবিধা ছিল। নতুন করে ৪৪টি দেশ যুক্ত হওয়ায় এখন মোট ১০১টি দেশের নাগরিকত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশিরা দ্বৈত নাগরিকত্ব সুবিধা পাবেন। কোনো কোনো দেশের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে, সেটা এসআরওর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়।

নতুন ৪৪টি দেশের মধ্যে রয়েছে আফ্রিকা মহাদেশের  মিশর, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া, আলজেরিয়া, সুদান, মরক্কো, ঘানা, রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তিউনিসিয়া, সিয়েরা লিয়ন, লিবিয়া, কঙ্গো, লাইবেরিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, ইরিত্রিয়া, গাম্বিয়া, বতসোয়ানা ও মরিশাস, দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ব্রাজিল, বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, সুরিনাম, আর্জেন্টিনা, পেরু, ইকুয়েডর, চিলি, উরুগুয়ে ও গ্যায়ানা, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের কিউবা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, হাইতি, বাহামা, জ্যামাইকা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, ডমিনিকা, সেন্ট লুসিয়া, বার্বাডোস, সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইন, গ্রেনাডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস এবং ওশেনিয়া মহাদেশের ফিজি।

ভিসি নয় উপাচার্য বলতে হবে: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্যের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে চার বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) আইন ২০২৩-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইনের সংশোধনীতে পদটির মেয়াদ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চার বছর করা হয়েছে। আর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) বলা যাবে না। বলতে হবে উপাচার্য।’

 

ইত্তেফাক/ইআ