ইতালি উপকূলে নৌকাডুবিতে ৬৩ জনের প্রাণহানি 

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৩, ০০:০৪

ইতালির দক্ষিণের উপকূলে নৌকাডুবিতে শিশুসহ শতাধিক অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নৌকাডুবির ঐ ঘটনায় অন্তত ৬৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ১২টি শিশু রয়েছে। রবিবার ক্রোতোনের কাছে তীরে ওঠার চেষ্টা করার সময় ভেঙে পড়া নৌকাটি দুইশর মতো লোককে বহন করছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। 

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি নৌকায় করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের এমন চোরাগোপ্তা যাত্রা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দিনকয়েক আগে তুরস্ক থেকে যাত্রা করা নৌকাটিতে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইরাক ও ইরানের নাগরিকরা ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বাজে আবহাওয়ার কারণে পাথরের সঙ্গে ধাক্কা লাগার পর অভিবাসন প্রত্যাশীদের ঐ নৌকাটি ডুবে যায় বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কালাব্রিয়া অঞ্চলে সমুদ্রের ধার ঘেঁষে থাকা একটি রিসোর্টের সৈকত থেকে অনেক মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। 

ইতালির কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ৮০ জনকে জীবিত পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে নৌকা ডুবে যাওয়ার পর যারা সাঁতরে তীরে আসতে পেরেছেন, তারাও আছেন বলে জানিয়েছেন তারা। জীবিত উদ্ধার এক জনকে অভিবাসন প্রত্যাশীদের এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে, বলেছে শুল্ক পুলিশ। নৌকাটিতে যারা ছিলেন, তাদের বেশির ভাগই পাকিস্তানি বলে ধারণা পাওয়া গেছে।

সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, নিহতদের মধ্যে দুই ডজনের বেশিই পাকিস্তানের নাগরিক বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসোলা দি কাপো রিজুতো শহরের অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে থাকা জীবিতদের অনেককেই কাঁদতে দেখা গেছে, কম্বলে শরীর মোড়ানো কেউ কেবল শূন্যে তাকিয়ে আছেন। ‘তারা ভয়াবহ ট্রমাটাইজড হয়ে পড়েছেন। কোনো কোনো শিশু তাদের পুরো পরিবার হারিয়ে ফেলেছে। আমরা যা যা পারছি, সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছি’, বলেছেন মেডিসিনস সানস ফ্রন্টিয়ারসের সের্গিও দি দাতো।

১৬ বছর বয়সি এক আফগান বালকের পাশেই সমুদ্রতীরে তার ২৮ বছর বয়সি বোন মারা গেছেন, কিন্তু একথা বাবা-মাকে বলার মতো সাহস, শক্তি তার নেই। ৪৩ বছর বয়সি আরেক আফগানের সঙ্গে কেবল তার ১৪ বছর বয়সি ছেলেই বেঁচে আছে। স্ত্রী, ১৩, ৯ আর ৫ বছর বয়সি বাকি তিন সন্তান মারা গেছে। স্বামী হারানো এক আফগান নারী কেবল কাঁদছেনই, তাকে তীর থেকে সরানো যাচ্ছে না। ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার অভিযান চালানো বেসরকারি সংস্থা এসওএস মেডিটেরিয়ানের ফ্রান্সেসকো ক্রিয়াজ্জে বলেন, আমাদের তীরে আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটল। এটা মনে করিয়ে দিচ্ছে, সমগ্র ভূমধ্যসাগরই এখন একটি বড় গণকবর, যা লাখ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, এই সংখ্যা ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে।

 

ইত্তেফাক/ইআ