ছাতকে ধীরগতিতে চলছে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ। ২৮ ফেব্রুয়ারি বাঁধ নির্মাণকাজের মেয়াদ শেষ হলেও এখানে বাঁধের নির্মাণকাজের মাত্র অর্ধেক শেষ হয়েছে। অধিকাংশ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) দাবি আর্থিক সংকটের কারণে কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। সরকারি বরাদ্দের টাকা না পেয়ে তারা ধারদেনা করে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকরা দ্রুত বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে কাজ ধীরে চলায় অনেক বাঁধের কাজই শেষ হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত উপজেলায় সব (পিআইসি) প্রকল্পের প্রায় ৪৫.৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছর উপজেলায় বিভিন্ন হওরের ফসল রক্ষায় ৩৭টি প্রকল্পে (পিআইসি) কাজ চলছে।
উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে জাউয়াবাজার নোয়ারাই, চরমহল্লা, খুরমা উত্তর, খুরমা দক্ষিণ ও সিংচাপইড় ইউনিয়নের বিভিন্ন হওরের ফসল রক্ষায় ৩৭টি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি টাকা। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির অনুকূলে সর্বাধিক ২৫ শতাংশ টাকা অগ্রিম প্রদান করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু উপজেলার হাওর রক্ষায় ৩৭টি প্রকল্পের মধ্যে অগ্রিম কোনো প্রকল্পেই টাকা দেওয়া হয়নি। কাজ শুরুর পর ২৩টি প্রকল্পের কাজে ১ম কিস্তির টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি ১৪টি প্রকল্পের কাজে ১ম কিস্তির টাকাই পরিশোধ করা হয়নি।
উপজেলার কয়েকটি হাওর ঘুরে দেখা যায়, নোয়ারাই ইউনিয়নের নাইন্দার হাওরের ফসল রক্ষায় বেশির ভাগ স্থানে মাটি ভরাট কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইউনিয়নের ৫ নম্বর প্রকল্পের (পিআইসি) সভাপতি আব্দুল হক জানান, প্রকল্পের কার্যাদেশ পেতে দেরি হওয়ায় কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। এ প্রকল্পে মাটি ভরাট কাজ শেষ, এখন ড্রেসিংয়ের কাজ চলছে। এক সপ্তাহের মধ্যে বাঁধে ঘাস লাগানোর কাজ শেষ করা হবে। নোয়ারাই ইউনিয়নে ২৪ নম্বর প্রকল্প কাজের সভাপতি আব্দুর নুর জানান, তাদের প্রকল্পের প্রায় ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। মাটি অনেক দূর থেকে তাদেরকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। চরমহল্লা ইউনিয়নে ১২ নম্বর পিআইসির সভাপতি এখলাছুর রহমান জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা করেছি। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যাবে। জাউয়াবাজার ইউনিয়নের ৭ নম্বর পিআইসির সভাপতি মমশর আলী জানান, বাঁধ মেরামতের প্রায় ৬৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তার প্রকল্পে মাটি ভরাট কাজ শেষে ড্রেসিংয়ের কাজ চলমান। এ পর্যন্ত ১ম কিস্তির টাকা পেয়েছেন তিনি।
উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের কৃষক রহিম আলী, নুরুল আমিন, নোয়ারাই ইউনিয়নের মতিন মিয়া, আরজ আলী, ছবির মিয়া, খুরমা দক্ষিণ ইউনিয়নের আবু তাহের, সাদিক মিয়া, সিংচাপইড় ইউনিয়নের ফয়েজ আহমদসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক কৃষক বাঁধের কাজে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সঠিকভাবে বাঁধের কাজ না হলে পানিতে কৃষকের কষ্টের বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও ব্যক্ত করছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী ও কাবিটা কমিটির সদস্য সচিব মহিউদ্দিন জানান, পিআইসির কমিটির কাজ শুরু করতে বিলম্ব করায় ও ফান্ড স্বল্পতায় বিল পরিশোধে দেরি হচ্ছে। শিগিগরই পিআইসির টাকা পরিশোধ করা হবে। ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প কমিটির সভাপতি নুরের জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রথমেই পিআইসি গঠনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। প্রকল্পের কাজ নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুত হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতকাজ শেষ করা হবে।
