শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

আমদানি নিয়ন্ত্রণের প্রভাবে কমেছে শুল্ক আদায়

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৩, ০০:৪০

ডলার-সংকট কাটাতে আমদানি নিরুত্সাহিত করার ধাক্কা এসেছে আমদানি পর্যায়ের শুল্ক আদায়ে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে গতবারের তুলনায় শুল্ক আদায় কমেছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য কিছুটা কমে আসাও এর পেছনে অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব কমার পাশাপাশি তা দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাব অনুযায়ী, গত জানুয়ারি মাসে আমদানি শুল্ক আদায় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ। অথচ গত বছরের একই সময়ের এই প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২৩ শতাংশ। বিশ্ববাজারে আমদানি পণ্যের দাম বাড়া সত্ত্বেও চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে আমদানি শুল্ক আদায়ে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশেরও কম হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২২ শতাংশের বেশি।

সংশ্লিষ্ট বলছেন, রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে আমদানি পণ্যে লাগাম টেনেছে সরকার। বিলাস পণ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে শতভাগ মার্জিন রেখে এলসি খোলা হচ্ছে। আবার শতভাগ মার্জিন দিয়েও অনেকে এলসি খুলতে পারছেন না। ব্যাংকগুলো পর্যাপ্ত ডলার দিতে পারছে না, যার কারণে এই পরিস্থিতি। এর ফলে শিল্পায়ন ব্যাহত হবে ও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানের ওপর। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শুল্ক আদায়ের পাশাপাশি জানুয়ারি মাসে আয়কর আদায়েও প্রত্যাশিত গতি নেই। এ খাতে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশেরও কম। আলোচ্য সময়ে সার্বিকভাবে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশেরও কম। এ সময়ে ৩১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৬ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা। অথচ আগের বছর জানুয়ারি মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৮ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ১৭ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের  পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ডলার-সংকট দেখা দিলে সরকার আমদানি নিরুৎসাহিত করতে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়। যার মধ্যে গত বছরের মে মাসে আমদানি নিয়ন্ত্রণে চার খাতের বিলাসজাত পণ্য আমদানির নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়া হয়।  কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলার হার কমেছে ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, জুলাই থেকে জানুয়ারি মাসে পেট্রলিয়াম ছাড়া মূলধনী যন্ত্রপাতি, ভোগ্যপণ্য, মধ্যবর্তী পণ্য এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে মূলধনী যন্ত্রপাতির জন্য এলসি খোলা হয় ১৪১ কোটি ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ের মধ্যে ছিল ৪২৫ কোটি ডলার। 

এছাড়া, চলতি অর্থবছরের সাত মাসে ভোক্তা পর্যায়ে ও মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি যথাক্রমে ১৮.২২ শতাংশ এবং ৩৩.৩০ শতাংশ কমেছে। এই দুই খাতে আমদানি হয়েছে ৪৭০ কোটি ডলার এবং ৩০০ কোটি ডলারের পণ্য। অবশ্য আগামী মাসগুলোতে আমদানি স্বাভাবিক হবে এবং রাজস্ব আদায়ও বাড়বে বলে মনে করছেন এনবিআর কর্মকর্তারা। এজন্য রাজস্ব আদায়ে মনিটরিং জোরদার করা, ও বকেয়া আদায় বাড়াতে মনোযোগী হতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে এনবিআর।

ইত্তেফাক/এমএএম