রেস্তোরাঁ-১

সবার পছন্দের শীর্ষে সেট মেনু ও বুফে

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৩, ০৭:৩২

ঘরের নিত্যদিনের মেন্যুর বাইরে খাবারের স্বাদে ভিন্নতা আনতে কিংবা যে কোনো উদযাপনে মানুষজন যান রেস্টুরেন্টে। বন্ধু বা পরিবার নিয়ে খাবারের সঙ্গে গল্প ও আড্ডার এমন চল বিশ্বের সবখানে। মুখরোচক খাবারের সঙ্গে প্রাণবন্ত আড্ডা নাগরিক জীবনের একঘেয়ে জীবনে আনে বৈচিত্র্য।

নগরবাসীর এ দিকটা খেয়াল রেখে রাজধানী ঢাকাতেও গড়ে উঠেছে অসংখ্য খাবারের হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে। খাবারের নিত্যনতুন পদ ও পরিবেশনে ভিন্নতা আনতে দেখা যায় নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা।

রেস্তোরাঁ মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকটি আইটেম নিয়ে সেট মেন্যুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। একটি নির্দিষ্ট দামে হরেক রকম খাবারের সমারোহের কারণে ক্রেতারা এটি পছন্দের শীর্ষে রাখছেন। তাই রেস্টুরেন্টগুলোও সেট মেন্যুকে প্রাধান্য দিয়ে সাজায় খাবার তালিকা। অন্যদিকে কিছু রেস্টুরেন্টে ব্যুফে আইটেমকে প্রাধান্য দিচ্ছে। ৭০ থেকে ১০০টি আইটেম নিয়ে এ আয়োজন করছে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট। ক্রেতারা এটিকেও রাখছেন পছন্দের তালিকার শীর্ষে।

রেস্তোরাঁ উদ্যোক্তারা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে কর্মজীবী ব্যক্তিরা স্বল্প সময়ের মধ্যে খাবার খেতে রেস্টুরেন্টে আসেন। তাদের সুবিধার জন্য সেট মেন্যু সাজানো হয়। আবার শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে খেতে এসে নির্দিষ্ট মূল্যের সেট মেন্যুকে প্রাধান্য দেয়। সেট মেন্যুর মাধ্যমে রেস্তোরাঁগুলো ভোক্তাদের বৈচিত্র্যময় খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে চেষ্টা করে। অন্যদিকে ব্যুফে খেতে আসেন আয়োজন করে পরিবার নিয়ে।

মিরপুরের ইনসাফ ক্যাফেতে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক ধরনের সেট মেন্যু পাওয়া যাচ্ছে এই রেস্টুরেন্টে। ৯৯ টাকা থেকে শুরু করে দামি মেন্যুও পাওয়া যাচ্ছে। ছাদের ওপর এই রেস্টুরেন্টে নিরিবিলি পরিবেশে পরিবার নিয়ে খেতে এসেছেন অনেকেই। এর মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবী সামিয়া আলম জানালেন, ছুটির দিনে পুরো পরিবার নিয়েই রাতের খাবার খাওয়ার জন্য এই রেস্টুরেন্টে এসেছেন। হরেক রকমের আইটেম পাওয়া যাচ্ছে এখানে। এর মধ্যে সেট মেন্যুগুলো বেশি চমৎকার। তারা সবার জন্য এটিই অর্ডার করেছেন।

অন্যদিকে বাবা-মাসহ ব্যবসায়ী সামিউল আলমও এসেছেন রাতের খাবার খেতে। ছুটির দিন হওয়ায় পরিবারের সবার সঙ্গে সময়টা কাটাতে বাইরে রেস্টুরেন্টে খেতে এসেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, আমরা ফ্রাইড রাইস, চিকেনসহ অন্যান্য আইটেম অর্ডার করেছি। পরিমাণে একটু বেশি খেতে সেট মেন্যুর বাইরে আলাদা করে অর্ডার করাতে তিনি স্বাছন্দ্যবোধ করেন বলে জানান।

এছাড়া ইয়োলো কিচেন, শর্মা হাউজ, শর্ট এ বোব, বেস্ট অব বার্গারসহ আরো কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ঘুরেও দেখা গেছে একই চিত্র। এসব রেস্টুরেন্টে ফ্রাইড রাইস, ভেজিটেবল, চিকেন, বিফের নানান পদ আর রয়েছে মাছের আইটেম। বেশির ভাগ রেস্টুরেন্টেই সরগরম থাকে বিকাল থেকেই। বেশির ভাগ কাস্টমার বিকালে আসেন। তবে অনেকেই আবার দুপুর বেলা অফিসের ফাঁকে অথবা আয়োজন করেও খেতে আসেন বলে জানান রেস্তোরাঁ মালিকরা। গাউসুল আজম নামে এক সরকারি কর্মকর্তা দুই সহকর্মীকে নিয়ে এসেছিলেন খেতে। তিনি বলেন, অফিসের সময় দ্রুত খাওয়ার তাড়া থাকে। এমন সময়ে ক্যাফেগুলোর সেট মেন্যুকে প্রাধান্য দিই। তাছাড়া সেট মেন্যুর খাবারে স্বাদেরও ভিন্নতা থাকে।

বন্ধুদের নিয়ে খেতে এসেছেন শামীম হোসেন। তিনি বলেন, আমরা বন্ধুরা পরিকল্পনা করেই প্রায় আসি রেস্তোরাঁয় খেতে। জন্মদিন পালনের পর আমাদের পার্টি হিসেবেই এই খাওয়া-দাওয়া করি আমরা। অন্যদিকে ব্যুফেকে প্রাধান্য দিয়ে অসংখ্য রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে।  ক্যাফে রিও নামে একটি রেস্টুরেন্টে দেখা যায়, তারা প্রায় ৮০ থেকে ১০০টি আইটেম নিয়ে ব্যুফে সাজিয়েছে। তাদের সেই ব্যুফে বেশ জনপ্রিয়। এটি ছাড়াও অন্যান্য রেস্তোরাঁয়ও ব্যুফের জনপ্রিয়তা বাড়ছে দিন দিন। জামিল হোসেন তার পরিবার নিয়ে ব্যুফে খেতে এসেছেন। তিনি জানান, ৮০০ টাকায় প্রায় ১০০টি আইটেম পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় সুযোগ পেলেই আমরা এখানে খেতে আসি। তাদের খাবারও ভালো।  

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, পাশ্চাত্যের দেশগুলোর মানুষের জীবনযাপন রেস্তোরাঁনির্ভর। আমাদের দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। বাড়ছে ব্যস্ততা। ফলে তারা রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে। তবে সব কিছুর দাম বাড়ায় আমরা কিছুটা বিপদে আছি। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সহযোগিতা দরকার।

 

ইত্তেফাক/ইআ