হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন আহতরা

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৩, ০২:৩০

হাতে-পায়ে ব্যান্ডেজ। মুখসহ সারা শরীরে ক্ষতের চিহ্ন নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের ফ্লোরে শুয়ে ব্যথায় কাতরাচ্ছেন ১৬ বছরের কিশোর শাহীন। বিস্ফোরণের সময় সে জুতার দোকানে কাজ করছিল। ওয়ার্ডের মেঝেতে পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন তার মা সফুরা খাতুন। তার চোখেমুখে রাজ্যের অনিশ্চয়তা।

তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী কয়েক মাস আগে মইরা গেছে। তারপর থেইক্যা ছেলের ট্যাকায় আমাদের তিন জনের সংসার চলে। আজ যদি অন্য সবার সাথে আমার পোলাও মইরা যাইত তাহলে আমাগো পরিবার রাস্তায় নামতে হইত।’ একই ওয়ার্ডের মেঝেতে পল্লব চত্রুবর্তী (৩৫) ব্যথায় কাতরাচ্ছেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যান্ডেজ দিয়ে প্যাঁচানো। পাশেই বসে মা-স্ত্রী এবং সন্তানরা কান্নাকাটি করছে। তাদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

ছবি- ফোকাস বাংলা

পল্লব চক্রবর্তী বলেন, সিদ্দিকবাজারে বিস্ফোরণের সময় ঐ ভবনের পাশ দিয়ে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসে টাকা জমা দিতে যাচ্ছিলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম, এটা নাশকতার কোনো ঘটনা হবে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দের সঙ্গে সঙ্গে চারদিক ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়, কারেন্ট চলে যায়। বিস্ফোরণে বহু দূর পর্যন্ত ছিটকে পড়ে ইট-পলেস্তারা, কাঠের টুকরো। আমার ওপরও পড়ল। তখন মনে হয়েছিল মা-বাবা, সন্তান কারো মুখ মনে হয় আর দেখতে পাব না।  মনে হয়েছিল এটাই কি আমার জীবনের শেষ মুহূর্ত?

আহতদের কষ্ট আর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। একই অবস্থা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। কেউ একপলক ছেলেকে দেখতে, কেউ-বা তার ভাইকে দেখতে, কেউ-বা তার বাবাকে দেখতে আইসিইউর বারান্দা ও ৫ম তলার এইচডিইউর সামনে বসে আছেন। দুই হাসপাতাল মিলে আহত ভর্তি রোগীর সংখ্যা অন্তত ৪০ জন। এ ঘটনায় ১১২ জনকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তবে অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যারা ভর্তি রয়েছেন তারা হলেন—আজিম (১৫), নোমান (৩২), ফাইজু (১৫), আশিক (২৩), কাউছার (৩৭), সিয়াম (৫০), শাকিল (২৩), শহিদুল (৩৪), শাহিন ( ৪২), ফয়সাল (২২), লিটন (২৫), হাসান (৩০), মোস্তফা (৩০) নাজির (৩০), নিঝর (২৮), খলিল (৪০), রুহুল আমিন (৩২), রশিদ (৫৪), শিবলী (৩৫), হাসান ( ২০), তোফাজ্জল (৩০), সজীব (২৪), সুমি (১৮), রকেয়া (৫০), রিয়াজ (২০), জাহান (২৫), শাহ আলম (৩০), নূর আলম (১৮), জাহান আলী (২০), মজনু (২৮), সেলিনা (৩৬), মোস্তাফিজুর (১১), রাজিব (৪২), ফারদিন (২২), মিলন (২৬), নার্গিস (৩০), হুমায়ুন কবির (৪৮), সুমন (২১), তুষার (১৮), সাইফুল (২০), আলামিন (২৫), শহিদুল (৪৮), মশারফ (৫০), জাহান ( ১৯), আলাউদ্দিন (২৩), সুমন চক্রবর্তী (৪১), তুহিন (১০), আলাউদ্দিন (২০), জয়নাল (৫০), মহাম্মদ ঈসমাইল (৪২), সুলাইমান (২৪) ও জামাল (৩৬)। এছাড়া আরও অন্তত ছয় জন ভর্তি আছেন, যাদের নাম জানা যায়নি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় অনেকেই চিকিৎসা নিয়েছেন। এরমধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল ও বার্ন ইউনিটে ২০ জন রোগী ভর্তি আছেন। আহতদের মাথায় আঘাতসহ মাল্টিপল ইনজুরি রয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম