শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

রামপালে লবণপানিতে নষ্ট হচ্ছে ২০০ বিঘার ধান

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৩, ০১:৩০

বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের অন্যতম নদীবেষ্টিত উপজেলা রামপাল। ৩৩৫ বর্গ কিলোমিটারের এই উপজেলায় পশুর, মরা পশুর মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলসহ ৫০টির অধিক নদী-খাল রয়েছে। এসব নদী ও খালের পানি লবণাক্ত হওয়ায় এই এলাকার বেশির ভাগ ধানিজমি অনাবাদি থাকতো। দীর্ঘদিন পরে পেরিখালি ও রাজনগর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে এ বছর ইরি মৌসুমে কিছু নদী ও খাল আটকে বাঁধ দিয়ে মিষ্টি পানির সংস্কার করে ধান চাষ করেছিলেন কৃষকরা।

কিন্তু চিংড়ি মাছের পোনা ছাড়ার সময় হওয়ায়, প্রভাবশালী ঘের মালিকরা খাল কেটে ধানের জমিতে লবণ পানি প্রবেশ করাচ্ছে। চিংড়ি চাষের জন্য উঠানো লবণপানিতে পচে যাচ্ছে কৃষকের কষ্টের ফসল। তবে ১৫-২০ দিন পরে লবণপানি প্রবেশ করালে ধানের ক্ষতি হতো না বলে দাবি কৃষকদের। ১৫ দিনের সময়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কোনো সুফল পাননি হতদরিদ্র কৃষকরা।

গত বুধবার সরেজমিনে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ঐ ওয়ার্ডের কালেখারবেড় এলাকার মধ্য থেকে বয়ে যাওয়া ঘরের খালের বাঁধ কেটে মৎস্য ঘেরে পানি ঢুকিয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এমন অবস্থায় লবণপানিতে কৃষকের ধান পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দুই তিন দিনের মধ্যে এসব ধানের গোড়া পচে নষ্ট হয়ে যাবে দাবি কৃষকদের। শুধু কালেখারবেড় নয়, রামপাল উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের সিংগুরবুনিয়া, রনজয়পুর ও আড়ুয়াডঙ্গা এলাকায়ও একইভাবে ধান চাষ করেছেন কৃষকরা। এসব এলাকার ঘের ব্যবসায়ীরা এখন খাল কেটে লবণপানি ঢোকানোর পাঁয়তারা করছেন।

কালেখারবেড় এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সবিতা হাসলাদার বলেন, গরু বিক্রি করে এবং এনজিও থেকে লোন নিয়ে ছয় বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। ১৫-২০ দিন পর ধান ঘরে তুলতে পারতাম। স্থানীয় প্রভাবশালীরা বাঁধটি কেটে দেওয়ায় লবণ পানি ঢুকে ধানগাছ সব মরতে শুরু করেছে। অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনেনি। 

একই গ্রামের কৃষক হুমাউন কবির বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে বিনা মূল্যে বীজ ও সার দেওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ নিয়ে ধান চাষ করেছিল। তখন লবণপানি ঠেকাতে সবার সম্মতি নিয়ে কালেখার খালে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে ঘেরে লবণপানি প্রবেশ করাতে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বাঁধটি কেটে দেয়। বাঁধটি কাটার আগে চেয়ারম্যান, কৃষি অফিসার ও ইউএনওকে বিষয়টি জানিয়েছি। ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য মাত্র ১৫ দিন সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনেনি। 

রাজনগর ইউনিয়নের সিংগুরবুনিয়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম বলেন, সবার অনুমতি ও সম্মতি নিয়ে আমরা তিন গ্রামের শতাধিক কৃষক প্রায় ১০০ একর জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। খাল কেটে লবণপানি ঢোকালে আমাদের ধান সব নষ্ট হয়ে যাবে।

রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতানা পারভিন বলেন, ধানচাষের জন্য কৃষকরা একমত হয়ে খাল আটকে ধান চাষ শুরু করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে কিছু ঘের ব্যবসায়ী পানি ঢুকিয়ে মাছচাষ করতে চান। এ কারণে মাছচাষিরা বাঁধটি কেটে দিয়েছেন। মানবিক কারণে চাষিদের ১৫ দিন সময় দেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম বলেন, কাউকে সরকারি খাল আটকে রাখার অনুমতি দিতে পারি না। তবে ঘের ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল, সেটা সমাধানের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা সমাধান করবেন। এছাড়া খাল না আটকে অন্য কোনোভাবে ধান চাষ করা যায় কি না, সে বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে কাজ করার পরামর্শ দেন উপজেলার এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

ইত্তেফাক/এমএএম