সখীপুরে চোরদের গাড়িতে আগুন

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৯, ২৩:৪৮

সখীপুরে তিন গরুচোরকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা চোরদের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

বুধবার উপজেলার কালমেঘা সুন্দলা পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গরুচোররা হলেন- ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মামারিশপুরের রায়হান মিয়া (২৫) ও একই উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের শামসুল ডাক্তারের ছেলে শাকিল আহমেদ (২৪) এবং কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার রবিউল ইসলামের ছেলে মোবারক হোসেন (২৫)। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বিকেলেই তাদের সখীপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। 

এছাড়া ১২ থেকে ১৩ বছরের এক যুবককে গ্রামবাসী আটক করলেও তাকে গণপিটুনি না দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই চোরের দল গত মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের হাসান আলী ও নজরুল ইসলামের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরি করে ট্রাকযোগে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পথিমধ্যে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালমেঘা সুন্দলাপাড়া পৌঁছালে তাদের ট্রাক কাদা রাস্তায় ফেঁসে যায়। রাস্তার ওই খানাখন্দক থেকে ট্রাকটি তোলার চেষ্টা করার সময় বুধবার সকালে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। দুটি ষাঁড় গরু কোন হাট থেকে কিনেছেন গ্রামবাসীর এমন প্রশ্নে তারা উল্টা-পাল্টা উত্তর দিতে থাকে। এসময় ট্রাকের মালিক ও চালক শাহীন মিয়াকে (৩০) হাট থেকে গরু কেনার রশিদ আনার কথা বলে পালিয়ে যায়। পরে উত্তেজিত জনতা বাকি তিনজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেন। এক পর্যায়ে তারা ওই ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেন।

বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সেলিম গরু চোরদের গণপিটুনি ও চোরের ট্রাক পুড়িয়ে দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।

সখীপুর থানার ওসি আমির হোসেন বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ৪ জনকে উদ্ধার করেছে। এদের মধ্যে এলাকাবাসী ৩ জনকে গনপিটুনি দেয় এবং ১২ থেকে ১৩ বছরের এক যুবককে চর-থাপ্পর দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ঘটনাস্থল ভালুকা হওয়ায় বুধবার বিকেলে ভালুকা থানা পুলিশের কাছে ৪ জনকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই থানায়ই মামলা হবে।

ইত্তেফাক/আরকেজি