ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ভবনে নেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৩, ০৭:৪০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন, শিক্ষকদের কোয়ার্টার, কর্মচারীদের কোয়ার্টার মিলে দুই শতাধিক ভবন আছে। তবে অধিকাংশ ভবনে নেই অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ও ফায়ার ড্রিল। কিছু ভবনে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকলেও নিয়মিত রিফিলের ব্যবস্থা নেই। এতে করে  হঠাত্ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহত হতে পারেন প্রায় ২০ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী। অগ্নি নিরাপত্তাবিষয়ক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা প্রশাসনের অদূরদর্শিতা বলছেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মুহসীন হল, সূর্যসেন হল, বিজয় ৭১ হল, কবি জসীমউদ্দীন হল, বঙ্গবন্ধু হল, জিয়া হল ও এফ রহমান হলে নেই কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও ফায়ার ড্রিল। শামসুন্নাহার হল, রোকেয়া হল ও কলাভবনে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকলেও নিয়মিত রিফিলের ব্যবস্থা নেই। এছাড়া কলাভবন ও লাইব্রেরির মতো বিশাল ভবনে নেই কোনো ফায়ার ড্রিল। বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল মসজিদেও নেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও ফায়ার ড্রিল। এ প্রসঙ্গে কলা অনুষদের ডিন ড. আব্দুল বাছির বলেন, ‘বেশ কিছু ভবনে এই যন্ত্র আছে, আবার কিছু কিছু ভবনে নেই। সব হলেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকার কথা। না থাকার বিষয়টি হল প্রশাসন ভালো বলতে পারবে। শিগিগরই আমরা ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়টি জোরদার করব।’ শিক্ষার্থীদের উদাসীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা গত বছর বিজয় একাত্তর হলে একটি ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করি, কিন্তু একজন শিক্ষার্থীও সেখানে উপস্থিত হয়নি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ‘আমাদের হলগুলোতে শিক্ষার্থীরা অনিরাপদ জীবন যাপন করছে। এটি প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হওয়া উচিত। এখন প্রতিনিয়তই অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত এই দুর্ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া। আমাদের একাডেমি ভবনে কিছু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দেখা গেলেও হলগুলোতে একদম নেই। হলগুলোতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র অতিদ্রুত লাগানো প্রয়োজন। এতে করে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকবে এবং নির্বিঘ্নে লেখাপড়া করতে পারবে।’  

জসিমউদ্দীন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলেন, কিছু কিছু ভবনে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই। অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। হঠাত্ এমন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সবার একটা প্রশিক্ষণ নেওয়াও প্রয়োজন।

ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এই সেক্টরে সক্ষমতা বাড়াতে আমরা পরিকল্পনা নিচ্ছি। প্রতিটি বিভাগ ও হলে ট্রেনিং দেওয়ার পরিকল্পনাও হয়েছে। কেন অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই, তা প্রশাসন ভালো বলতে পারবে।’

এ প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এটা বাস্তব যে আমাদের অনেক ভবনে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই। আবার যেসব ভবনে আছে, সেগুলো ব্যবহার করার মতো উপযুক্ত মানুষ  নেই, সেগুলো নিয়মিত রিফিল করারও ঘাটতি আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের এ ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেই। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বড় দুর্বলতা আছে। আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছি, তা আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়। আমাদের হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের যে প্রাচুর্য্য, এতে করে হঠাত্ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরো বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। এমন বড় ঝুঁকি প্রশমনের ব্যবস্থাও আমাদের এখানে নেই। সব সময় বাইরের ওপর আমাদের নির্ভর করতে হয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও আমাদের যথেষ্ট উপাদান নেই। আমরা শিগিগরই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

 

ইত্তেফাক/ইআ