চুয়াডাঙ্গায় পূর্ব বিরোধের জেরে কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ২০ জুন ২০১৯, ১৬:১০

চুয়াডাঙ্গায় পূর্ব বিরোধের জেরে হেদায়েত মন্ডল নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত হেদায়েত মন্ডল (৪৮) সদর উপজেলার হাসনহাটি গ্রামের মৃত পুটে মন্ডলের ছেলে। বুধবার দিনগত রাতে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করে নিহতের পরিবার। এ ঘটনার পর ওই গ্রামে দুইপক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাসনহাটি গ্রামে একটি ইটভাটা নির্মাণকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামের হেদায়েত মন্ডল ও কাদের আলীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিলো। এই বিরোধের জের ধরে বুধবার রাতে হেদায়েত মন্ডলের ছেলে আক্তারের সঙ্গে কাদের আলীর ভাগ্নে শাহীনের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন হেদায়েত মন্ডল। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাকির হোসেন তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী মামুন জানায়, বুধবার দিনরাত সাড়ে ৯টার দিকে হেদায়েত মন্ডলের ছেলে আক্তার মোটরসাইকেল নিয়ে গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পাশ দিয়ে ট্রাক্টর নিয়ে যাচ্ছিলেন কাদের আলীর ভাগ্নে শাহীন। এক পর্যায়ে ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগলে আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে শাহীনকে চড় থাপ্পড় মারেন। এরপর এ ঘটনাকে নিয়ে দুই পরিবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। 

আরও পড়ুন:  পরিবাগে বহুতল ভবনে আগুন

নিহতের ছেলে আক্তার অভিযোগ করেও বলেন, 'ট্রাক্টর দিয়ে চাপা দিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছিলো। এর প্রতিবাদে আমি শাহীনকে থাপ্পড় দিলে সে বাড়িতে গিয়ে তাদের পক্ষের ১০ থেকে ১২ জনকে নিয়ে আমার ওপর হামলা করে। এ সময় আমার বাবা হেদায়েত মন্ডল তাদেরকে নিবৃত করতে এগিয়ে এলে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা হেদায়েত আলী মন্ডলকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।' 

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ মো. ফকরুল আলম খাঁন জানান, 'ঘটনার পর হাসনহাটি গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার মৃতদেহের ময়না তদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

ইত্তেফাক/জেডএইচডি