বাহিনীতে গুরুতর নানা কর্মকাণ্ড

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ ‘প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বর্ণবাদী’

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৩, ২২:২০

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ বাহিনীতে বর্ণবাদ, নারীবিদ্বেষ, বৈষম্য, ধর্ষণ ও সমকামী-বিদ্বেষের মতো নানা গুরুতর বিষয়ের বিশদ বিবরণ উঠে এসেছে ব্রিটেনের সরকারি একটি প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনের ফলাফল অনুযায়ী, লন্ডনের পুলিশের প্রতি জনসাধারণের আস্থা অর্ধেক কমে গেছে। পুলিশ বাহিনী ‘প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ’ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেনি। রয়টার্স, সিএনএন ও আরটিসহ বেশকিছু সংবাদমাধ্যমের খবরে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (২১ মার্চ) ৩৬৩ পৃষ্ঠার ওই নথি প্রকাশিত হয়। ২০২১ সালের মার্চে সারাহ এভারার্ড নামের তরুণীকে অপহরণের পর ধর্ষণ, এরপর হত্যা করেন লন্ডনের পুলিশ কর্মকর্তা ওয়েন কুজেনস। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সদস্য লুইস কেসি প্রতিবেদনের পর্যালোচনায় উল্লেখ বলেছেন, লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ এখনও ‘প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ’ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেনি। মাত্র ৫০ শতাংশ জনসাধারণ ব্রিটিশ রাজধানীতে কার্যকরভাবে জনগণকে রক্ষায় পুলিশের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। বাকি ৫০ শতাংশ লোক পুলিশের ওপর এ বিষয়ে আস্থা রাখছেন না।

এছাড়া লন্ডনের মেট্রোপলিটন এলাকাজুড়ে পুলিশের ‘গুরুতর ব্যর্থতা’ও খুঁজে পাওয়া গেছে। এ কারণে বাহিনীতে ‘মৌলিক সংস্কার’ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সদস্য লুইস কেসি। সংগৃহীত ছবি

লুইস কেসি বলেছেন, আমরা ব্যাপক উৎপীড়ন, বৈষম্য, প্রাতিষ্ঠানিক সমকামীতা, নারীবিদ্বেষ, বর্ণবাদ এবং অন্যান্য অগ্রহণযোগ্য আচরণ খুঁজে পেয়েছি পুলিশ বাহিনীতে। নারী ও শিশুরা তাদের প্রাপ্য সুরক্ষা এবং সমর্থন পায় না।

ব্রিটেনের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা মেট্রোপলিটনের কমিশনার মার্ক রাউলি সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা লন্ডনবাসীকে হতাশ করেছি। আমরা আমাদের নিজেদের ফ্রন্টলাইনকে হতাশ করেছি। আমি গভীরভাবে দুঃখিত।

সংগৃহীত ছবি।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীর পেশাদার মান বাড়ানো হয়েছে। আমরা দ্রুত হারে কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করছি। এখনও হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো অপরাধে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা বাহিনীতে কর্মরত আছেন কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেছেন, এটি মেট্রোপলিটন পুলিশের ২০০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কালো দিনগুলোর একটি। পুলিশের প্রতি আস্থা না থাকলে জনগণ কোনো অপরাধের অভিযোগ জানাতে এগিয়ে আসবে না। আমাদের সকলের স্বার্থে পুলিশের সেবার মূল ও শাখা রদবদল নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সংগৃহীত ছবি

এ বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেছেন, পুলিশের ওপর আস্থা ‘মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে।

তিনি বিবিসি টেলিভিশনকে বলেন, এখন আমাদের করণীয় হলো, এ সকল গুরুতর বিষয়ের পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেটি নিশ্চিত করা। আমরা জনগণের আস্থা ফিরে পেতে পারি। আমি জানি পুলিশ কমিশনার এটি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এদিকে, পরামর্শ হিসেবে ৩৬০ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের সংস্কারের জন্য অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে শক্তিশালী নেতৃত্ব, নারী সুরক্ষা সেবা ও শিশুদের বিষয়ে নতুন কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ইত্তেফাক/এসকে