শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

বিশ্ব পানি দিবস আজ

পানিদূষণ ঠেকাতে বাড়াতে হবে সচেতনতা

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৩, ০৬:০১

বিশ্ব পানি দিবস আজ। প্রতিদিনই বাড়ছে পানির চাহিদা। কিন্তু বাড়ছে না সুপেয় পানির পরিমাণ। পানির উৎস নদী-নালা,  হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ পানির উৎসও হ্রাস পাচ্ছে। যার বড় কারণ দখল ও দূষণ। আর এসব উৎসকে বাঁচাতে সচেতনতা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব পানি দিবস ২০২৩’ পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের গৃহীত এক প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি বছর ২২ মার্চ বিশ্ব পানি দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিওতে এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। সেখানে পানি সম্পদের জন্য একটি বিশেষ দিন ঘোষণার দাবি তোলা হয়। ১৯৯৩ সালে প্রথম বিশ্ব পানি দিবস পালিত হয় এবং এরপর থেকে এ দিবস পালনের গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।

বিভিন্ন কারণে পানিদূষণ হচ্ছে। এর মধ্যে পয়ো-আবর্জনা, শিল্পের আবর্জনা, মানুষের প্রত্যক্ষ দূষণ, কঠিন আর্বজনা, কীটনাশক ও আগাছানাশক ওষুধ, তেজস্ক্রিয় পদার্থ, এসিড, খনিজ তেলদূষণ অন্যতম। বিশেষ করে পয়োপ্রণালির ক্ষতিটা হচ্ছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বেশি। মলমূত্র ও বর্জ্য পদার্থ নদীতে গিয়ে এমনভাবে পড়ছে, যার ফলে পানি দূষিত হয়ে ব্যবহারের অযোগ্য হচ্ছে। এমনকি দূষণের কারণে জলজ প্রাণী এবং উদ্ভিদ মারা যাচ্ছে ও বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে শিল্প কারখানা হতে নির্গত বিষাক্ত আর্সেনিক পানিতে মিশছে। এসব ক্ষতিকর উপাদান পানিকে দূষিত করছে। অন্যদিকে পলিথিন, রাবার, প্লাস্টিক দ্বারা তৈরি পণ্য যা সহজেই নষ্ট হয় না এগুলো পানিতে জমে পানিকে নষ্ট করছে।    

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষ্যে সেমিনারের আয়োজন করে যৌথভাবে ওয়াটার রাইটস ফোরাম, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) ও বেলা।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, উন্নয়নের নামে যারা যমুনা নদীকে ছোট করার চিন্তা করছেন, তারা নির্বোধ। যাদের মাথা থেকে এসব চিন্তা আসে, তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কোনো যুক্তিতেই যমুনা নদীকে সংকুচিত করার সুযোগ নেই। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

এএলআরডির চেয়ারপারসন খুশী কবিরের সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য দেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বুয়েটের অধ্যাপক শাহজাহান মন্ডলসহ অন্যরা। মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড যমুনা নদীকে ছোট করার উদ্যোগ নিয়েছে। কেন আপনারা যমুনাকে ছোট করতে চান? নদী ধ্বংস করে অর্থনীতি হতে পারে? যারা এসব চিন্তা করেন, তারা নির্বোধ। তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’ নদী নিয়ে সরকারের যেসব সংস্থা কাজ করে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার তাগিদ দেন মুজিবুর রহমান।

বেলার রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘এত বছর পর এসে এখন আমাদের শুনতে হচ্ছে, যমুনা নদী এত চওড়ার প্রয়োজন নেই। নদীকে ছোট করতে হবে। এ নদী কৃষক, জেলে, গ্রামীণ মানুষের বেঁচে থাকার বিষয়। কয়েক জন প্রকৌশলী বলে দিলেন, এ নদী ছোট করতে হবে। এটা প্রকৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান। বুয়েটের অধ্যাপক শাহজাহান মন্ডল বলেন, যমুনা নদীকে সংকুচিত করার চিন্তা অবান্তর। এটা করা হলে বর্ষার সময়ে যে পরিমাণ পানি আসবে, তা কোনদিকে যাবে? তিনি অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড বড় প্রকল্পের দিকে নজর দিচ্ছে। তাদের দায়িত্ব হচ্ছে কীভাবে নদী রক্ষা করবে। অথচ তারা নদীকে ছোট করার পরিকল্পনা করছে। বিষয়টি পুনরায় চিন্তা করার পরামর্শ দেন তিনি।

 

ইত্তেফাক/ইআ