বলা হয়ে থাকে, ভারতীয়দের জীবনের লক্ষ্য থাকে দুটি- হয় বলিউড, নয়তো ক্রিকেট! নিছক গল্প মনে হতে পারে। তবে এটা তো অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, ভারতে সিনেমা ও ক্রিকেটের রসায়নটা জমজমাট। প্রেম-ভালোবাসায় জোড়ায় জোড়ায় কত নাম। সেই নামগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল সম্ভবত বিরাট কোহলি-আনুশকা শর্মা। তাঁদের বিয়ে হয়েছে অনেক দিনই। কিন্তু প্রেমের শুরুটা হয়েছিল কীভাবে?
আনুশকার সঙ্গে চুপি চুপি প্রেম চলেছে অনেক দিন। কোহলি বরাবরই এড়িয়ে যেতেন প্রসঙ্গ। তবে বিজ্ঞাপন করতে গিয়ে বলিউড-কন্যার সঙ্গে যে জীবন জড়িয়ে নিয়েছেন, সেই গল্প একের পর এক ছাপা হতে থাকে ভারতীয় মিডিয়ায়। তারপর তো ২০১৭ সালে সাত পাকে বাঁধা পড়েন আনুশকার সঙ্গে। ছয় বছরের সম্পর্কের শুভ পরিণয় ঘটে ইতালিতে।
ক্রিকেটের মানুষ হয়ে বলিউডের আনুশকার সঙ্গে কোহলির যোগাযোগটা হয়েছিল কীভাবে? সেই গল্পই কোহলি শুনিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার এবি ডি ভিলিয়ার্সের ইউটিউব চ্যানেলে। ভারতীয় ব্যাটসম্যান শুরুটা করেছেন এভাবে, ‘মনে আছে, সময়টা ছিল ২০১৩ সাল। মাত্রই জিম্বাবুয়ে সফরের জন্য ঘোষিত দলের অধিনায়ক হয়েছি আমি। ওই সময় আমার ম্যানেজার জানাল, টিভি বিজ্ঞাপনের কথা। তিনি (ম্যানেজার) জানালেন, শুটিং হবে আনুশকা শর্মার সঙ্গে।’
ততদিনে কোহলির প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটেছে। প্রতিশ্রুতিশীল ব্যাটিংয়ে তৈরি করছিলেন ভবিষ্যতের সিঁড়ি। ওদিকে আনুশকা বলিউডের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ‘রাব নে বানা দি জোরি’ সিনেমায় শাহরুখ খানের বিপরীতে অভিনয় দিয়ে বলিউড পা রাখেন। এরপর আনুশকার নামের পাশে যোগ হয় আরও কয়েকটি হিট সিনেমা। এমন একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীর সঙ্গে শুটিয়ের কথা শুনে স্নায়ুচাপ তৈরি হয় কোহলির।
মাঠে তিনি দুর্দান্ত, কিন্তু ক্যামেরার সামনে কতটা সাবলীল থাকতে পারবেন, সেই চিন্তা ভর করেছিল কোহলির মাথায়। সাবেক এই অধিনায়কের ভাষায়, “আনুশকা সেসময় শীর্ষ নায়িকাদের একজন। শুটিয়ের কথা শোনা মাত্রই আমি কিছুটা ঘাবড়ে যাই। সত্যি বলতে আমি নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। শুধু ভাবছিলাম, ‘ওর (আনুশকা) সঙ্গে শুরুটা কীভাবে করব। কী বলব ওকে।”
এরপর এলো শুটিংয়ের দিন। ওই দিনের প্রতিটি মুহূর্ত এখনো টাটকা কোহলির স্মৃতিতে, ‘(শুটিং সেটে) আনুশকা আসার পাঁচ মিনিট আগে পৌঁছে গিয়েছিলাম। আমি ঠিক বুঝতে পারিনি, আনুশকা আসলে কতটা লম্বা। নার্ভাসনেসের কারণে প্রথমেই আমার মাথায় আসে ওর পরা উঁচু হিল। ওকে বলেই বসি, ‘পরার জন্য এর চেয়ে উঁচু হিল আর ছিল না?’
আনুশকার উত্তর কী ছিল? কোহলি বলতে থাকেন, “ও শুনেই বলে ওঠে, ‘এক্সকিউজ মি?’ খুবই বাজে ব্যাপার ছিল। এতাই নার্ভাস ছিলাম যে, বুঝে উঠতে পারছিলাম না। তবে শুটিং শেষ হওয়া পর আমাদের মধ্যে আড্ডা হয়। গোটা দিন পার করার পর বুঝতে পারলাম- ও খুব ভালো মানুষ। মধ্যবিত্ত জীবনের অভিজ্ঞতা আমাদের দুজনেরই ছিল, তাই আমরা একে অন্যকে কানেক্ট করতে পারছিলাম।’
তাহলে কে প্রথম ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলেন? কোহলি এখানে শুনিয়েছেন অন্যরকম অভিজ্ঞতার কথা, “একেবারে সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের ডেটিং শুরু হয়ে গিয়েছিল, ব্যাপারটা এমন নয়। আমরা লম্বা সময় একজন আরেকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার তো মনে হতো আমি ডেটিং শুরু করে দিয়েছি। একদিন ওকে আমি মেসেজ পাঠিয়েছিলাম।’ লিখেছিলাম, ‘যখন সিঙ্গেল ছিলাম, তখন প্রায়ই এটা-ওটা করতাম’। কথাটা শুনে আনুশকা আমাকে লেখে, ‘এটা-ওটা করতাম মানে?’ আসলে ততদিনে আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিলাম, ওর সঙ্গেই প্রেম করবো।”
শুধু প্রেম নয়, কোহলি জীবনসঙ্গীও করেছেন আনুশকাকে। এখন তাঁরা এক সন্তানের বাবা-মা। স্ত্রী আনুশকা ও মেয়ে ভামিকাকে নিয়ে কোহলির সুখের সংসার।
